সিউড়ি:  কথিত রয়েছে মা তারা তারাপীঠের মন্দিরে এক এক রূপে আবির্ভূতা হন৷ কখনও দেবী দুর্গা৷ আবার কখনও বা মা অন্নপূর্ণা৷ শনিবার ছিল মা তারার আবির্ভাব তিথি৷ এই উপলক্ষে বহু ভক্তের সমাগম হয় তারাপীঠ মন্দিরে৷

শুক্লা চতুর্দশীতে তারাপীঠের তারা মাকে পশ্চিম মুখে বসিয়ে আরাধনা করা হয়। কিন্তু কেন এমনটা করা হয় জানেন কি? বছরের বিভিন্ন সময়ে তারা মাকে বিশেষ বিশেষ রূপে পুজো করা হয়ে থাকে৷

ঠিক তেমনই শুক্লা চতুর্দশী অর্থাৎ লক্ষ্মী পুজোর আগে তারা মায়ের আবির্ভাব তিথি পালিত হয়। এদিন তারা মায়ের পুজোতে এক ব্যতিক্রমী বিষয়ও লক্ষ্য করা যায়৷ তা হল মা তারা উত্তরমুখী হলেও এদিন পশ্চিম মুখে বসানো হয়৷ তারপরই তাঁর আরাধনা করা হয়৷ এই পশ্চিম মুখে মাকে বসিয়ে আরাধনার পিছনে রয়েছে এক কাহিনী।

কথিত আছে বীরভূম ঝাড়খণ্ড লাগোয়া মলুটি গ্রামের মা মৌলিক্ষা ও মা তারা দুই বোন৷ এদিন মৌলিক্ষা মন্দিরের দিকেই মা মুখ করে বসে থাকেন৷ দ্বিতীয়ত এখানে প্রতিদিনই মায়ের সেবাতে অন্নের ভোগ দেওয়া হয়৷ কিন্তু শুধুমাত্র আজকের দিনে দুপুরে অন্নের ভোগ নিবেদন করা হয় না৷ তার পরিবর্তে দেওয়া হয় লুচি ও সুজির ভোগ৷

পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী পাল রাজত্বের সময় জয় দত্ত সদাগর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন শ্বেত শিমুল বৃক্ষের তলায় পঞ্চমুন্ডির আসনের নিচে মায়ের শিলা মূর্তি রয়েছে। স্বপ্নাদেশ পেয়ে শুক্লা চতুর্দশী তিথিতে জয় দত্ত সদাগর ওই শ্বেত শিমুল বৃক্ষের তলায় পঞ্চমুন্ডির আসনের নিচ থেকে মায়ের শিলা মূর্তি উদ্ধার করে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। সেই প্রতিষ্ঠার দিন থেকে অর্থাৎ শুক্লা চতুর্দশীর দিন মায়ের পুজোর সূচনা হয়। তখন থেকেই এই শুক্লা চতুর্দশীর দিনটিকে মায়ের আবির্ভাব দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এই উপলক্ষে শুক্ল ত্রয়োদশীর দিন থেকে তারাপীঠ প্রাঙ্গণে ভক্তদের জমায়েত শুরু হয়৷

এদিন মাকে মূল মন্দির থেকে বের করে বিরাম মঞ্চে ভক্তদের মাঝে আনা হয়৷ সন্ধ্যায় মাকে স্নান করিয়ে আবার মূল মন্দির নিয়ে যাওয়া হয়। তারাপীঠের এই বিশেষ পুজো দেখতে বহু মানুষ আজকের দিনে ভিড় জমান। শুধু এই রাজ্য থেকে নয়, প্রতিবেশি রাজ্য থেকেও বহু মানুষ ভিড় জমান এখানে।