কলকাতা:  তাপস পাল আর নেই…। এমনই এক সংবাদে গত কয়েকদিন আগে ঘুম ভাঙে বাঙালির। তাঁদের প্রিয় সাহেব যে আর নেই তা ভেবে নিতে বেশ কিছুটা সমস্যাই হয়। কিন্তু বাস্তবটা মেনে নেওয়াটা কঠিন হলেও তা মেনে নিতেই হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে তাপস পালের মৃত্যু নিয়ে শুরু হয়ে যায় জোর রাজনৈতিক চর্চা। তাঁর মৃত্যুর জন্যে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিহিংসাকে দায়ী করা হয় তৃণমূলের তরফে।

এমনকি, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাপস পালের মৃত্যুর জন্যে কেন্দ্রের উপরই দোষ চাপান। যদিও এই বিষয়ে পরিবারের তরফে কিছুই বলা হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি তাপস পালের মৃত্যুর জন্যে চাঞ্চল্যকর কারণ সামনে এনেছেন প্রয়াত অভিনেতা তাপস পাল পত্নী নন্দিনী পাল। মৃত্যুর কারণ নিয়ে তাঁর ফেসবুক পোস্টে একের পর এক বিস্ফোরক পোস্ট করেন নন্দিনী। যেখানে তাপস পালের মৃত্যুর জন্যে সরাসরি মুম্বইয়ের হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালকে কাঠগোড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। শুধু প্রয়াত তাপস পালের স্ত্রীই নন, মেয়ে সোহিনীও একের পর এক বিস্ফোরক পোস্ট করেছেন।

নন্দিনী পাল তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি বিচার চাই.. হ্যাঁ,তারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে’। নন্দিনীর পোস্ট ঘিরে শুরু জোর সমালোচনা। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে জীবনাবসান হয় তাপস পালের। মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আর সেই হাসপাতালের বিরুদ্ধে ঘোরতর অভিযোগ তুলেছেন তাপস পত্নী।

কি সেই পোস্ট?

 

বাংলা সিনেমার ঘরানায় ঠিক ঘরের ছেলেই ছিলেন তাপস পাল ৷ ১৯৮০ সালে গোলাকার মুখাবয়ব ৷ ঠোঁটের ওপর সদ্য গজানো গোঁফ ৷ ‘দাদার কীর্তি’র নিপাট ভাল মানুষ তাপসকে আজও ভুলতে পারেনি আপামোর বাঙালি ৷ আর সেই থেকেই সিনেমার পর্দার মধ্যে দিয়ে বাঙালির ঘরে ছেলে হয়ে দাঁড়ালেন তাপস পাল৷ ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’, ‘গুরুদক্ষিণা’, ‘তুমি কত সুন্দর’-এর মতে ছবিতে পর পর মন জয় করেন তিনি ৷ বলিউডে মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে জুটি বেঁধেও ‘অবোধ’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তাপস পাল ৷

তবে শুধুই মেইন স্ট্রিম বাংলা ছবিতে নয়, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত-র অন্যধারার ছবিতেও দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন তাপস পাল ৷ নজর কেড়েছিলেন ‘উত্তরা’ ও ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’ ছবিতেও ৷ বাংলা সিনেমায় একসময় তাপস পাল ছিলেন তুরুপের তাস ৷ সিনেমায় নতুন নায়িকা আসা মানেই তাপসের বিপরীতে ৷ আর তারপর বক্স অফিসে সেই ছবি সুপারহিট ৷ ঠিক যেমন তাপস পাল-দেবশ্রী রায় ৷ তরুণ মজুমদারের ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ ছবিতে জুটি বাঁধলেন ৷ বিপুল সফল হয়েছিল সেই ছবি ৷ তারপর একে একে ‘সাথীহারা’, ‘চোখের আলোয়’, ‘তবু মনে রেখো’ ৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.