সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: তিনি বলেছিলেন ‘এই তাপস পাল ছেড়ে কথা বলবে না’। ছেড়ে কথা বলবেন না তাঁর বিরোধীদের। অশ্লীল ভাষায় ধর্ষণের হুমকি দিয়েছিলেন তৃণমূলের একসময়ের ‘গুড বয়’। একটা বক্তৃতা , তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ করেছে। এমন সময়েও ‘বাতিল’ তৃণমূল নেতাকে ছেড়ে কথা বলল না ট্রোলবাজরা। দিদির দলের টিকিট পেয়ে মিমি নুসরতদের ট্রোল তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলেছেন তাপস পালও।

আরও পড়ুন: প্রিয়াঙ্কা মন্দিরে ঢুকতেই শ্লোগান উঠল ‘হর হর মোদী’

ছড়া কেটে প্রাক্তন সাংসদ তাপস পালের নামে অশ্রাব্য ভাষায় লেখা হয়েছে , ‘ছেঁড়া ন্যাতা পাপোশ, লাথ খেয়েছে তাপস।’ এই ট্রোল ছড়ার শুরুতেই যথারীতি মিমি এবং নুসরত। মিমিকে নিয়ে লেখা হয়েছে , ‘পাবদা চিংড়ি তিমি, যাদবপুরে মিমি’। নুসরতকে নিয়ে লেখা হয়েছে , ‘দৌড় ঝাঁপ কসরৎ, বসিরহাটে নুসরত’।

 

বেশ আপত্তিজনক লাইনগুলির শুরু এরপর থেকে। যেখানে রয়েছেন একে একে মুনমুন সেন , দেব এবং শতাব্দী রায়। তিন জনেই আবারও লোকসভার টিকিট পেয়েছেন তৃণমূল থেকে। তাঁদের তিন জনকে নিয়ে লেখা হয়েছে , ‘লাউ কুমড়ো বেগুন , আসানসোলে মুনমুন’ , ‘কাঁথা কম্বল লেপ , ঘাটালে আবার দেব’ , ‘সেই পুরোনো উপলব্ধি, বীরভূমে ফের শতাব্দী’। শেষ লাইনে তাপস পালকে ‘ছেঁড়া ন্যাতায় মুড়িয়ে’ ফেলে দেওয়া হয়েছে ছড়ার মাধ্যমে।

আরও পড়ুন: বাবুল সুপ্রিয়কে শোকজ করল কমিশন

দলের টিকিট না পেয়েও রাজনীতি থেকে দূরে থেকেও এমন কথা শুনতে হচ্ছে তাঁকে। এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন সাংসদের সঙ্গে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। ঠিক যেন উবে গিয়েছেন তৃণমূলের নেতা বড় পর্দার অভিনেতা। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছিল, তাপস পালের ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে টিকিট না পাওয়ার কারণ নাকি তাঁর
শারীরিক অসুস্থতা।

প্রসঙ্গত , দু’বারের সাংসদ তাপস পাল যে এ বার আর দলের টিকিট পাচ্ছেন না তা প্রায় নিশ্চিতই ছিল। দ্বিতীয় দফায় সাংসদ হওয়ার পরে একাধিক বার বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। কখনও নিজের লোকসভা কেন্দ্রে গিয়ে ‘ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন, কখনও বিরোধীদের উদ্দেশে নানা উস্কানিমূলক কথা বলে তাঁর বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার শুরু।

আরও পড়ুন: বিজেপির চৌকিদারের মত কংগ্রেসের হ্যাশট্যাগ হতে পারে ‘পাপ্পু’: অনিল ভিজ

তারপর থেকেই কৃষ্ণনগরে আসাও কমে যায় তাঁর। দলের একাংশের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। তারপরেই অর্থলগ্নি সংস্থা কাণ্ডে গ্রেফতার হন তাপস। সেই থেকেই আর সে ভাবে তাঁকে দলের কাজে দেখা যায়নি। তাঁর বদলে কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে প্রস্তাবিত তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে একাধিক নাম উঠে এসেছিল।