ফাইল ছবি

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতাঃ ঘরের ছেলে এমন কথা বলে না কি? চৌমাহা গ্রামের সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি কথাটা ওঁদের ঘরের ছেলে তাপস , কারও কাছে বা তোপোস বলছে। ইসসস….ম্যা গো। ও কি কথা! বলে না কি ছেলে ঢুকিয়ে…..ইসসস… হ্যাঁ ঠিক এভাবেই একটা কথা, জীবনটাই বদলে দিল অভিনয় করে সবার ঘরের ছেলে হয়ে ওঠা তাপস পালের।

রাজনৈতিক কেরিয়ার কম সফল নয়। ২০০১ সালে রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ। তারপর ক্রমে ২০০১ সালের বিধানসভায় তৃণমূলের টিকিটে জয়। ২০০৬এ আবারও ঘাস ফুলের এমএলএ নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে বড় দায়িত্ব পেলেন। এবার কেন্দ্রের নির্বাচনে জয়। ২০১৪ সালে ব্যাক টু ব্যাক কৃষ্ণনগর থেকে সাংসদ নির্বাচনে জয়। কেরিয়ার লম্বা হতে পারত আরও। যেমনটা হয়েছে সহ অভিনেত্রী তথা বন্ধু শতাব্দীর। ২০১৪ সালেই চৌমাথা গ্রামে গিয়ে এক ছোট্ট জনসভায় গিয়ে ভয়ঙ্কর মন্তব্য প্রকাশ করে ফেলেন ঘরের ছেলে তাপস।

যে মেয়েরা মিষ্টি মুখে প্রেমে পড়ত সাহেবের। যে সাহেবকে ঘরের ছেলে মেনে নিয়েছিল কাকিমা জেঠিমারা সেই ছেলে না কি বলছে মেয়েদের ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে রেপ করিয়ে দেবে! অবিশ্বাস্য , তবু বাস্তব। এহেন মন্তব্যের পরেই ঘরে-বাইরে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় সাহেবকে। দলও পাশ থেকে সরে যায় এহেন মন্তব্যের পর থেকে। চাপের মুখে ক্ষমা চাইলেও এরপর থেকেই নিজেকে সবকিছু থেকে সরিয়ে নেওয়া।

দলীয় বৈঠকে অংশ নিলেও আর প্রকাশ্যে সেই অর্থে কোনও কর্মসূচি কিংবা অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। এরপর ২০১৬ সালে রোজ ভ্যালি কাণ্ডে নাম জড়ানো যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিল। আর ঘরে ফেরা হয়নি ঘরের ছেলের। ক্রমে সাধারণের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন। চেয়েছিলেন আমেরিকায় মেয়ের কাছে চলে যেতে। তাও হল না। চলে গেলেন সবার সাহেব।