স্টাফ রিপোর্টার , কলকাতা : সহকর্মী, তবু রোজভ্যালি কাণ্ডে নাম জড়ানোর পর থেকে ক্রমে নেত্রীর সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে তাপস পালের। একসময়য়ে জনসাধারণের সাহেবকে মানুষ দেখেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাম বিরোধী রাজনীতিতে মাঠে নামতে। সেই তাপস পাল দল , রাজনীতি থেকে দূরে চলে গিয়েছিলেন বহু দিন। আপাত দৃষ্টিতে খুবই ‘ফর্মাল’ তবু দলের একসময়ের সঙ্গীকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

টুইট করেছেন পাশাপাশি সরকারিভাবে শোক জ্ঞাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, ‘বিশিষ্ট অভিনেতা ও প্রাক্তন সাংসদ তাপস পালের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি আজ ভোরে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র দাদার কীর্তি, সাহেব, ভালোবাসা ভালোবাসা, অনুরাগের ছোঁয়া, অমর বন্ধন ইত্যাদি। তিনি হিন্দি সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন।

তাপস পাল ২০১৪ সালে কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের সাংসদ নির্বাচিত হন।’ আরও লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১২ সালে তাঁকে বিশেষ চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান করে। এছাড়া তিনি ফিল্ম ফেয়ার ও কলাকার পুরস্কার পান। তাঁর প্রয়াণে অভিনয় ও রাজনৈতিক জগতে অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমি প্রয়াত তাপস পালের আত্মীয় পরিজন ও অনুরাগীদের’।

প্রসঙ্গত, আজ মঙ্গলবার ভোরে জীবনাবসান হয় তাপস পালের। মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাপস পালের মৃত্যুতে শোকের ছায়া সিনে জগতে।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। অভিনিয়ের পাশাপাশি ২০০৯ সালের ভারতীয় সাধারণ নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে টিকিট নিয়ে নির্বাচিত হয়ে কৃষ্ণনগর থেকে এমপি হন তিনি। তবে ২০১৬ সালের শেষের দিকে রোজ ভ্যালি নামে একটি চিট ফান্ডের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে সিবিআই তাকে গ্রেফতার করে।

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল তাঁর। ২২ বছর বয়সে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম ছবি ‘দাদার কীর্তি’। ‘গুরুদক্ষিণা’ ছবির জন্য তাঁকে আজীবন মনে রাখবে বাংলার দর্শকমহল। ওই ছবিতে কালী বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর যুগল বন্দি রীতিমতো কাঁদিয়েছিল বাংলার দর্শককে।