কলকাতা: অভিনয় জীবনে ‘ভেবলু’ নায়ক, কিন্তু রাজনৈতিক জীবনে প্রবল বিতর্কিত। কখনো সেই ‘সাহেব’ তাপস পালকে দেখা গিয়েছে রুপোলি পর্দায় বুল্টির দাদা। যেরকম বাংলার ঘরে ঘরে দেখা যায়। আবার সেই লোকটাই রাজনীতিতে নেমে – ‘ঘরে ছেলে ঢুকিয়ে দেওয়া’র মতো ভয়ঙ্কর মন্তব্য করেন। তাতে বাংলার বুল্টিরা বুঝেছিলেন ধর্ষণের হুমকি।

অভিনেতা তাপস পালের ( ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৮- ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০) মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই আসবে বিতর্ক ও বিতর্ক বিহীন চর্চা। তবুও ‘কুকথা’ মন্তব্য় পেরিয়ে এখনও তাঁর জনপ্রিয়তা মিশরের সেই নীল নদের মতোই আকাশে মিলায়। সেই ব্যক্তি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-সাংসদ হয়ে ‘ঘরে ঘরে ছেলে ঢোকানো’র বার্তা দিয়ে বাস্তবিক খলনায়ক হয়েছিলে।

আশির দশকের পশ্চিমবঙ্গ। তখন বাংলার ক্রিকেট মানে রণজি ট্রফিতে অবাঙালি অরুণ লালের নেতৃত্বে বাঙালিদের কেরামতি। স্নেহাশিষ গাঙ্গুলির মধু ঝরানো খেলা। কৃশানু-বিকাশ পাঁজি-চিবুজার-চিমার ফুটবল ঝলক। মাঝে মধ্যে বুলা চৌধুরীর সাঁতার। আর ঘরে ঘরে ভেবলু নায়ক তাপস পাল সমাদৃত। এই লোকটা যে রাজনীতিতে গিয়ে যা তা বলবে-শোনার পরেও ভাবতে অসুবিধা হয়েছিল অনেকের।

এই আশির দশকেই টলিউড পেল তাপস পাল-কে। একটার পর একটা বাণিজ্যিক বাংলা ‘বই’ ( তখনও ছবি বলার রেওয়াজ আসেনি ) হিট। তাপস পাল, মহুয়া, শতাব্দী, দেবশ্রী তো ছিলেনই। বাজার মাত হচ্ছিল। টলি দুনিয়ায় আরও তিন নায়ক প্রসেনজিৎ, চিরঞ্জিৎ, অভিষেকের সঙ্গে সমান পাল্লা দিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে তাপস পাল।

সিনেমার সফল নায়ক। বাস্তবে বিতর্কিত। শুধু বাজে মন্তব্য ঘিরেই নয়, জড়িয়েছিলেন রোজভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে। সংশোধনাগারে অসুস্থ তাপস পালের চিকিৎসার ছবি দেখেছিলেন রাজ্যবাসী। বারে বারে প্রশ্ন উঠছিল, ভেবলু নায়ক কী করে এমন সব বিষয়ে জড়িয়ে থাকতে পারেন। বাস্তব বলছিল অন্য কথা।

সব কথার উত্তর হয়না। প্রয়াণের পর সেই সাহেবের সুখ স্বপ্নের ময়ূরপঙ্খীটা অধরা থাকল ‘চন্দননগরের মালের’। আজও কেউ শুনবেন- ‘ যা পেয়েছি আমি তা চাই না। যা চেয়েছি কেন তা পাই না।’