বিজয় রায়, কলকাতা: সংসদে দলনেতা হওয়ার অনেক আগে থেকেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল তাপস পালের৷ ২০০৯-এ কৃষ্ণনগর থেকে প্রথমবার সাংসদ পদে নির্বাচিত হওয়ার পর সেই সম্পর্ক আরও মজবুত হয়৷ দু’ জনেই এখন রোজভ্যালিকাণ্ডে অভিযুক্ত৷ দুই সাংসদের বর্তমান ঠিকানা ভুবনেশ্বরের বেসরকারি এক হাসপাতাল৷

আরও পড়ুন: আগামী সপ্তাহেই সুদীপের বিরুদ্ধে চার্জশিট ?

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দল যত বেশি তৎপর, তাপস পালকে নিয়ে সেই অর্থে কোনও আগ্রহ দেখানো হয়নি৷ মুখে সরাসরি একথা স্বীকার না করলেও এই অভিযোগের সুর বারংবার স্পষ্ট হয়েছে খোদ তাপস পালের বক্তব্যে৷ এমনকী তাঁর স্ত্রী নন্দিনী মুখোপাধ্যায়কেও ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছে বেশ কয়েকবার৷ কানাঘুষো চলছে, আগামী সপ্তাহেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট পেশ করতে পারে সিবিআই৷ কিন্তু, তাপস পালকে নিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা কী করবে তার কোনও সদুত্তর এখনও মেলেনি৷ এই পরিস্থিতে দলনেতার দিকেই তাকিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের এই অভিনেতা-সাংসদ৷

আরও পড়ুন: সুদীপ-তাপসের পর অসুস্থ হয়ে পড়লেন রোজভ্যালিকর্তা

দিন কয়েক আগে দলীয় কাজে ভুবনেশ্বরে গিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ সফরসঙ্গী ছিলেন সাংসদ সুব্রত বক্সি৷ দলের এই দুই শীর্ষস্থানীয় নেতাই ভুবনেশ্বরের বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে কথা বলেন রোজভ্যালিকাণ্ডে ধৃত দুই সাংসদের সঙ্গে৷ সেখানে সময় মেপে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বললেও, সেই অর্থে তাপস পালের সঙ্গে তৃণমূলের এই শীর্ষস্থানীয় নেতারা তেমন কোনও কথাই বলেননি বলে জানা গিয়েছে৷ যদিও এই বিষয়ে সুব্রত বক্সিকে ফোন করা হলে বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘দলের কাছে সকলেই সমান৷ এই বিষয়ে দল দ্বিচারিতা করছে না৷’’ দুই সাংসদের পাশে দল আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি৷

আরও পড়ুন: সুদীপকে পাশে পেয়ে ‘ভালো’ আছেন তাপস

দলের একটা অংশ মনে করছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের আগে তাপস পালকে লাগাতার জেরা করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা৷ তাঁর কাছ কাছ থেকেই সিবিআই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পেয়ে থাকতে পারে৷ যার ভিত্তিতেই উত্তর কলকাতার এই সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা সাজাতে সুবিধা হয়েছে সিবিআইয়ের৷ সেই কারণেই তাপস পালের সঙ্গে সম্পর্ক আলগা করতে শুরু করে করে দল৷ কারণ আরও আছে৷ তাপস পালের উদ্দেশে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ দক্ষিণ ২৪ পরগণার দলের ট্রেড ইউনিয়নের এক নেতার কথায়, ‘‘এরা তো আর নেতা নন৷ এরা নিজেদের সুবিধা মতো দলে এসেছিলেন৷ তাই দল তাঁর পাশে থাকবে কি না তাতে আশা করি তাঁর কিছু যায় আসে না৷’’ তবে দল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি৷

আরও পড়ুন: সুদীপ গ্রেফতারের আঁচ শহর ছাড়িয়ে জেলাতেও

এ দিকে তাপস পালকে গ্রেফতারের পর থেকেই ভুবনেশ্বরের এক হোটেলে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করেছেন তাঁর স্ত্রী নন্দিনী মুখোপাধ্যায়৷ সেখানে থাকার কয়েক দিনের মধ্যেই নম্বরও বদলে ফেলেছেন তিনি৷ তাই এই বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি৷