মিটু আন্দোলন নিয়ে বলিউডে তিনিই প্রথম খোলেন৷ তারপর সামনে আসতে থাকে বলিউডের অন্ধকার জগতের নানা কাহিনী৷ ভারতে মিটু আন্দোলনের মুখ অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত এবার জোর ধাক্কা খেলেন৷ প্রবীণ অভিনেতা নানা পটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এনেছিলেন প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া৷ সেই নানা পটেকরকে ক্লিনচিট দিল মুম্বই পুলিশ৷

তনুশ্রীর আনা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে মুম্বই পুলিশ৷ এরপর আদালতে মুখবদ্ধ খামে রিপোর্ট জমা দেন তদন্তকারীর৷ সূত্রের খবর, সেই রিপোর্টে প্রবীণ অভিনেতাকে ক্লিনচিট দিয়েছে পুলিশ৷ কারণ নানার বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ মেলেনি৷ অভিনেত্রীর আইনজীবী নীতিন সতপুতে টাইমস নাওকে জানান, পুলিশের কাছ থেকে সরকারি ভাবে এমন তথ্য জানানো হয়নি৷ তবে তিনি জানান রিপোর্টে তেমন কিছু জানানো হলে তারা লড়াই করতে প্রস্তুত৷

তনুশ্রী দত্তের অভিযোগ ছিল, ২০০৯ সালে হর্ন ওকে প্লিজ ছবির শ্যুটিংয়ের সময় নানা পটেকর তাঁকে যৌন হেনস্থা করেন৷ তারপর বলিউডে শুরু হয় মিটু মুভমেন্ট৷ হ্যাশট্যাগ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়তে থাকে৷ আর সেই হ্যাশট্যাগই ভেঙে গুড়িয়ে দেল বলিউডর তাবড় তাবড় পরিচালক, প্রযোজকদের৷

হলিউডে বহু আগেই শুরু হয়ে গিয়েছিল #MeToo মুভমেন্ট৷ তারানা বার্ক নামক এক আমেরিকান সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্টের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এই প্রতিবাদ৷ কাজের সূত্রে কিংবা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা কীভাবে নীচু পদের মহিলাদের যৌন হেনস্তা করে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা ছিল #MeToo র উদ্দেশ্য৷ তনুশ্রী দত্তের হাত ধরে বলিউডে উঠেছে #MeToo দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে৷

নানা পাটেকারের পর নাম জড়ায় অলোকনাথ, কৈলাশ খের, সাজিদ খান, অনু মালিক, বিকাশ বেহেল, সুভাষ ঘাই, রজত কাপুর, আলি জফর, তালিকার শেষ নেই৷ এক একজন তারকার পেছনে প্রায় অসংখ্য মহিলাই যৌন হেনস্তার অভিযোগ জানিয়েছেন৷ যার জেরে CINTAA (চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন সংস্থা) অলোকনাথ এবং সাজিদ খানকে বিতারিতও করেছে৷ প্রত্যেক অভিযুক্তই তাঁদের বিরুদ্ধে আসা যৌন হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷