কলকাতা: গত কয়েকদিন ধরে পরিচালক অরিন্দম শীলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্রের শ্লীলতাহানির অভিযোগের পর সামনে আসেন আরও এক মহিলা। তনুরুচি শীল নামে ওই মহিলার দাবি, তিনিই অরিন্দম শীলের স্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ডিভোর্স না করেই অন্য এক মহিলাকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তাঁর সঙ্গে থাকেন অরিন্দম।

আগেই ফেসবুকে এই অভিযোগ নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন তিনি। এবার ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অভিযোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সোমবার একটি পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। লিখেছেন, ‘আমি তনুরুচি শীল। আমাকে আপনারা হয়তো চিনবেন না। চেনার কথাও নয়। রূপাঞ্জনার মত আমি ও পরিস্থিতির চাপে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম।’

তিনি আবারও জানিয়েছেন যে তিনিই এখনও আইনত অরিন্দমের স্ত্রী।

তনুরুচি জানান, চার্বাক নাট্যগোষ্ঠীতে অরিন্দমের সঙ্গে কাজ করতেন তিনি। সেখানেই পরিচয়, প্রেম ও বিয়ে। সুখী দাম্পত্যেই দিন কাটাচ্ছিলেন তাঁরা। যৌথভাবে একটি ফ্ল্যাটও কেনেন। আর তারপরই তাঁদের মাঝখানে শুক্লা দাসের আগমন, যাঁকে বর্তমানে নিজের স্ত্রী বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন অরিন্দম শীল।

তনুরুচির বক্তব্য অনুযায়ী, একই সংস্থায় কাজ করতেন তনুরুচি ও শুক্লা। রজত রায় নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে শুক্লার বিয়ে হয়। চারজন অর্থাৎ দুই পরিবার বিশেষ বন্ধু ছিলেন। শুক্লার স্বামী ওর প্রচন্ড অর্থ নৈতিক চাহিদা মেটাতে না পেরে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন বলে দাবি তনুরুচির।

শুক্লা ও রজতের মধ্যে যখন বিবাদ শুরু হয় তখন তনুরুচি, অরিন্দম ও শুক্লা তিনজন দার্জিলিং গিয়েছিলে ওর মেয়েকে হোস্টেলে ভর্তি করানোর জন্য একটা ভালো হোস্টেলের খোঁজ করতে। এরপরই নাকি শুরু হয় শুক্লা-অরিন্দমের সম্পর্ক। কিছুদিন পর রজতের মৃত্যু হয়।

তনুরুচির বাবার মৃত্যুর পর চারদিনের কাজে আমি বাড়ি গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ফিরে এসে দেখেন অরিন্দম হঠাৎই অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করছে। এরপর শুক্লা আর অরিন্দম একসঙ্গে দার্জিলিং চলে যায়। অভিযোগ, তনুরুচিকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়। যৌথভাবে কেনা সেই ফ্ল্যাটে থাকেন অরিন্দম ও শুক্লা।

শুক্লার মেয়ে সোনিকাকে দত্তক না নিয়েই সোনিকা শীল নামে স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তনুরুচি।‌ তাঁর দাবি, বিয়ে না করেই নিজেকে শুক্লা শীল হিসেবে পরিচিয় দেয়।