মেদিনীপুরঃ  কাঁথির পর এবার তমলুক পুর-বোর্ডের প্রশাসক রবীন্দ্রনাথ সেনকে সরানো হলো। সোমবার রাজ্যের পুরো ও নগর উন্নয়ন দফতরের জয়েন্ট সেক্রেটারি এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। তাতে বলা হয়েছে পুরো বোর্ডের প্রশাসকের দায়িত্ব সামলাবে এখন থেকে দীপেন্দ্র নারায়ন রায়।

এছাড়াও প্রশাসক মন্ডলীতে সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রাক্তন কাউন্সিলার কো-অর্ডিনেটর চন্দন প্রধান, সুব্রত রায়, শক্তিপদ ভট্টাচার্য, পৃথ্বীশ নন্দী, স্নিগ্ধা মিশ্র এবং চিত্ত মাইতি। গত কয়েকদিন আগে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কো-অর্ডিনেটর বিশ্বজিৎ দত্ত বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তার জায়গায় বিশিষ্ট আইনজীবী চিত্ত মাইতিকে প্রশাসক মন্ডলীতে রাখা হয়েছে।

গত মে মাসে তমলুক, কাঁথি এবং এগরা পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড এর মেয়াদ শেষ হয়। তারপর এই তিন পুরসভায় চেয়ারম্যানদের পুরভোটের প্রশাসক এবং ভাইস চেয়ারম্যানদের বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিযুক্ত করেছিল রাজ্য সরকার। দীপেন্দ্র নারায়ন রায় প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান এবং বোর্ডের সদস্য ছিলেন এবার তাকেই প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করা হলো তমলুক পুরসভায়।

কাঁথি পুরসভার পর তমলুক পুরসভায় প্রশাসকের রদবদল ঘটানো হলো। হঠাত করে কেন এই রদবদল তা নিয়ে জোর রাজনৈতিক জল্পনা। অধিকারীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ হওয়াতেই কি এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের? উঠছে প্রশ্ন। অন্যদিকে, : দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারিত পূর্ব মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা শুভেন্দু অধিকারীর বাবা শিশির অধিকারী।

কাঁথির তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারীর জায়গায় দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে রামনগরের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরিকে। পূর্ব মেদিনীপুরের অধিকারী সাম্রাজ্যে গেরুয়া থাবার জের, এবার দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ থেকে অপসারিত কাঁথির তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শিশির অধিকারী।

শিশিরবাবুর জায়গায় ওই পদে আনা হয়েছে জেলার রামনগরের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরিকে।

হঠাত করে শিশির অধিকারীকে সরানো নিয়ে তৃণমূলের তরফে কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, লকডাউন করোনার কারণে বের হতে পারছিলেন না শিশির বাবু। শুধু তাই নয়, তিনি অসুস্থও। ওই সমস্ত অঞ্চলে কাজ করতে হবে সেই কারণেই হয়তো শিশিরবাবুকে সরানোর সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন কুণাল।

আবার এদিন সাংবাদিক বৈঠকে এটাও দাবি করে কুণাল বলেন, শিশিরবাবু তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা। তাঁর দুই ছেলে বিজেপিতে গিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করছে। আর উনি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করছে না! যা অবশ্যই দলের কাছেও খারাপ লাগার কারণ হতে পারে বলে মন্তব্য কুণালের। তৃণমূলেরই হাফ-ডজন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে গেরুয়া দলে যোগ দিয়ে শাসকের ‘ঘুম’ কেড়েছেন শুভেন্দু।

একের পর এক সভা -মিছিলে তুলোধনা করছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। নিয়ম করে আক্রমণ শানাচ্ছেন শাসকদলের অন্য নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধেও। শুভেন্দু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই কাঁথির পুর প্রশাসক পদ থেকে অপসারিত হন শুভেন্দুর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী।

পরে সৌমেন্দুও দাদা শুভেন্দুর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। ইতিমধ্যেই দলে ‘বেসুরো’ গাইছেন শুভেন্দু অধিকারীর আর এক ভাই তথা তমলুকের তৃণমূল সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী। ছোট ভাই সৌমেন্দুর অপসারণ অগণতান্ত্রিক বলে দাবি করেছেন দিব্যেন্দু। দিব্যেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগ দেওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

এরই মধ্যে এবার শুভেন্দু-দিব্যেন্দুদের বাবা শিশির অধিকারীকেও দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ থেকে সরানো হল। কাঁথির বর্ষীয়ান সাংসদ শিশির অধিকারীর জায়গায় দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের নতুন চেয়রাম্যন করা হল রামনগরের তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরিকে।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।