স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: রোদ চিকচিক পিচঢালা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হয়তো আচমকাই ভুলেই যাবেন সাত সমুদ্দর তেরো নদী আর চৌদ্দ প্রহর দূরে কোথায় আছেন আপনি! কারণ সাজ সাজ রব স্টেশন চত্ত্বরকে ক্যানভাস করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এক অতল সমুদ্র৷ বারো থেকে বাহাত্তর আর আট থেকে আশি প্রায় সকলের মুখে ঘুরছে এক কথা।

তমলুক রেল স্টেশনের ওভারব্রিজ থেকে শুরু করে সংলগ্ন এলাকা শিল্পীর তুলির টানে হয়ে উঠেছে আস্ত ক্যানভাস। একসময়ের নোংরা দেওয়ালে লেগেছে রং-তুলির ছোঁয়া। রেলের দেওয়াল মানেই পানের পিক, আর নোংরা-আবর্জনা। সেই ধারনাকেই বদলাতে চাইছেন তমলুকের রেল কর্তারা। আর সে উদ্যোগকে সামনে রেখে তমলুক স্টেশনকে মডেল স্টেশন হিসাবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে রেল৷

স্টেশনের ওভারব্রিজ জুড়ে শিল্পীর তুলিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অতল সমুদ্রের ছবি। প্রবাল স্তুপ, সামুদ্রিক প্রাণী, গাছ, মাছ, দেখতে দেখতে পৌঁছে যাওয়া যাবে সমুদ্রের তলদেশে। প্রকৃতির নানা দৃশ্য ফুটে উঠেছে শিল্পীর তুলিতে। সেই সঙ্গে স্বদেশি ঐতিহ্যে আঁকা রঙিন আলপনা শিহরিত করবে বাঙালি মন-প্রাণকে।

 

রেল সূত্রে খবর, ২৯ জানুয়ারি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার জেলার বিভিন্ন স্টেশন পরিদর্শন করবেন। স্বচ্ছতা, যাত্রী সুরক্ষা থেকে শুরু করে রেলের বিভিন্ন পরিষেবা খতিয়ে দেখবেন তিনি। আর সে জন্য তমলুক, দিঘা, পাঁশকুড়ার মতো জনপ্রিয় স্টেশনগুলিকে মডেল হিসেবে চিহ্নিত করে আধুনিকীকরণে জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই মডেল হওয়ার প্রতিযোগিতায় এমন সাজসজ্জা তমলুক স্টেশনের।যা ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মানুষের কাছে।

রেল কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারাও। তমলুক শহরের স্থানীয় বাসিন্দা তথা রেলযাত্রী ভাস্কর পাল, তুহিন বর্মন, সৌম্য প্রামাণিকরা বলেন,“প্রায় প্রতিটি স্টেশনে রেলের দেওয়াল মানেই পানের পিক, আর নোংরা-আবর্জনা দেখা যায়। সেক্ষেত্রে এমন সৌন্দর্যায়ন যদি প্রতিটি স্টেশনে করা হয় তাহলে স্টেশনগুলিকে নোংরা হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।”