তমলুক (পূর্ব মেদিনীপুর): ব্যাঙ্কে গেলেই ধরা পড়বে কালো টাকার হদিশ। বাঁচার শেষ সুযোগ জেলা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সোনার দোকান। রাতের অন্ধকারে অধিক দামে সোনা কিনেই কালো টাকাকে কিছু অংশে বাঁচানোর চেষ্টায় অসাধু কারবারিরা। এই সুযোগে এক শ্রেণীর স্বর্ণ ব্যবসায়ীও উঠে পড়ে লেগেছেন অধিক মুনাফার লোভে। কালোবাজারি রুখতে আয়কর দফতর সোনার দোকানগুলিতে নজরদারি শুরু করেছে। এমন খবরে গত দু’দিন ধরে পূর্ব মেদিনীপুরের অধিকাংশ সোনার দোকানে তালা ঝুলেছে বলে সূত্রের খবর। যদিও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবী, টাকার যোগানের অভাবেই তাঁরা ব্যবসা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
অভিযোগ, জেলায় এমন অনেক কারবার রয়েছে যেখানে সরকারি নজরদারি এড়িয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। টাকা বাতিলের ঘোষণার জেরে চূড়ান্ত নাকাল হচ্ছে কালো টাকার কারবারিরা। এই কালো টাকা লেনদেনের একটা বড় বাজার হল পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ছড়িয়ে থাকা সোনার দোকানগুলি। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল, তমলুক, পাঁশকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল এলাকা যার মধ্যে অন্যতম। এখানকার হাজার হাজার সোনার কারবারির অনেকেরই কোনও সরকারী ট্রেড লাইসেন্স নেই। তাদের কাছে কালো টাকা দিয়ে সোনা কেনার মোক্ষম সুযোগ রয়েছে কালোবাজারিদের৷ বিষয়টি নজরে আসার পর থেকেই আয়করের প্রতিনিধিরা জেলা জুড়ে সোনার দোকানগুলোতে হানা দিচ্ছেন৷ এমনই খবরে তোলপাড় জেলার সোনার বাজার। ফলে বুধবারের পর থেকে তমলুক মহিষাদলের সোনার দোকানগুলিতে ধীরে ধীরে ঝাঁপ পড়ছে৷  ব্যবসায়ীদের একাংশ মানছেন, আয়কর হানা হলে সোনার ব্যবসা যে আরও বেশী মার খাবে সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। তবে এ ব্যাপারে আয়কর আধিকারিকরা মুখ খুলতে নারাজ। আয়কর বিভাগ সূত্রে খবর, সরকার জাল টাকার কারবার রুখতে বদ্ধপরিকর। বাজারের সোনার দোকানগুলি তাদের নজরে রয়েছে৷