তমলুক: সিএএ, এনআরসি বিরোধী সমাবেশে যোগ দিয়ে কেন্দ্রকে তুলোধনা করলেন সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম। তমলুক হাসপাতাল মোড়ে সিএএ বিরোধী সভায় বক্তৃতা করতে উঠে নরেন্দ্র মোদীর কডজ়া সমালোচনার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেন সিপিএমের এই পলিটব্যুরো সদস্য।

তমলুকের হাসপাতাল মোড়ে ‘সংবিধান বাঁচাও, নাগরিকত্ব বাঁচাও’শীর্ষক কর্মসূচির আয়োজন করে ওয়েলফেয়ার পার্টি অফ ইন্ডিয়ার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা শাখা। সমাবেশের মূল বক্তা ছিলেন সিপিএমের পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম। সভায় যোগ দিয়ে সেলিম বলেন,‘দেশের সংকট থেকে পরিত্রাণ পেতে চান মানুষ৷ কেন্দ্রীয় সরকারের সেদিকেই নজর দেওয়া উচিত ছিল৷ দেশে বেকারি বাড়ছে, এ বিষয়ে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পদক্ষেপ জরুরি৷ বিনিয়োগ এনে শিল্প গড়ার বদলে দেশকে আরো সংকটে ফেলছে কেন্দ্র৷ সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন তৈরি করে দেশের মানুষের মধ্যেই কেন্দ্র অনৈক্য তৈরি করছে।’

তমলুকের হাসপাতাল মোড়ে এই কর্মসূচিতে সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম ছাড়াও দলের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি, আরএসপির জেলা সম্পাদক অমৃত মাইতি, স্থানীয় বিধায়ক অশোক দিন্দা উপস্থিত ছিলেন৷ এদিন সিএএ ও এনআরসি ইস্যুতে কেন্দ্রের সমালোচনার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেছেন সেলিম।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে কংগ্রেস, তৃণমূলের পাশাপাশি রাজ্যে-রাজ্যে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে বামেরাও। সিএএ-র প্রতিবাদে প্রথম বামশাসিত কেরলই রাজ্য বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করায়। শুধু তাই নয়। দেশের মধ্যে প্রথম রাজ্য হিসেবে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করে কেরল। এরই পাশাপাশি কেরলে এনপিআর-এর কাজও বন্ধ রেখেছএ পিনারাই বিজয়নের সরকার। কোনও সরকারি কর্মী এনপিআর-এর কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে কেরল সরকার। পশ্চিমবঙ্গেও নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির বিরুদ্ধে পথে নেমে আন্দোলন করছে বামেরা।