চেন্নাই:  আগামী ২৪ ঘন্টায় আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস। সঙ্গে বইতে পারে ঝড়ো হাওয়া। রাজধানী চেন্নাই সহ গোটা তামিলনাড়ুর জন্যে এমনটাই পূর্বাভাস দিল মৌসম ভবন। আগামী কয়েকদিনে সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে সতর্কতা জারি করেছে সেখানকার স্থানীয় আবহাওয়া দফতরও। আর এই পূর্বাভাসের পরেই সেখানের স্কুল, কলেজে ছুটির পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গত ২৪ ঘন্টায় তামিলনাডুতে চলছে ভয়ঙ্কর বৃষ্টি। ইতিমধ্যেই কোয়েম্বাটোরে বৃষ্টির জেরে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৭ জনের। এদের মধ্যে ২ জন শিশুও রয়েছে। লাগাতার ভারী

বৃষ্টির তোড়ে দেওয়াল ভেঙে পড়েই ঘটেছে এই ভয়ঙ্কর কাণ্ড। জানা যাচ্ছে, ২০০ ফুটের একটি কম্পাউন্ড ওয়াল বেশ কয়েকটি বাড়ির ওপর ভেঙে পড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটার সময়। একটি সংবাদ সংস্থার বক্তব্য ওই সময় বাড়ির সকলেই ঘুমিয়েছিল। ফলে ঘটে মর্মান্তিক পরিণতি। ধ্বংসস্তুপ থেকে মৃতদেহ উদ্ধারে কাজে নামে দমকল কর্মীরাও। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তামিলনাডু সরকার মৃত পরিবার পিছু ৪ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছে ১০ জন মহিলাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারত মহাসাগরে নিম্নচাপের জেরে গত দুদিন ধরেই তুমুল বৃষ্টি চলছে কোয়েম্বাটুরে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি স্কুল ও কলেজ। পাশাপাশি বেশ কিছু পরীক্ষাও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রবিবার তামিলনাড়ুর মন্ডাপাম উপকূলীয় অঞ্চলে ছয়টি মাছ ধরার নৌকা তীরে আঘাত করে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। সে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর তিরুভাল্লুর, ঠোঠুকুরি, রমানাথপুরাম-এর বিভিন্ন স্কুল কলেজে ছুটি বলে ঘোষণা করেছে।

গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্মুখীন হয়েছিল রামেশ্বরাম।

রামেশ্বরামের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, “এই এলাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এরফলে সাধারণ মানুষের থাকার জায়গা ভেসে গিয়েছে। ” কিন্তু প্রশাসন চুপ বলে দাবি করেছেন তিনি। আছাড়া ওপর এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, ” গত বেশ কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির জেরে আমার বাড়ির মধ্যে জল ঢুকে গিয়েছে। এমনকি আমার বাড়িতে আমি নিজেই যেতে পারছি না। আমরা এব্যাপারে প্রশাসনের কাছে আমাদেরকে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি।”

লাগাতার বৃষ্টিতে যখন গোটা রাজ্য বিপর্যস্ত তখন আরও ঝড় বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। এই সতর্কতা পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে সেখানকার প্রশাসন। পর্যাপ্ত ত্রাণ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। বড় কিছু ঘটনা ঘটলেই যাতে বাহিনীকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেওয়া যায় সেজন্যেই এই অ্যালার্ট দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে লাগাতার ভারী বৃষ্টির কারণে বহু এলাকা জলমগ্ন। সেই সমস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।