চেন্নাই : মাত্র ৫৯ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে ভিড় করলেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় কমেডিয়ান তামিল অভিনেতা বিবেক।

শনিবার ভোর ৪: ৪৫ মিনিট নাগাদ চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। জানা গিয়েছে, শুক্রবার তাঁর বুকে ব্যথা শুরু হলে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়।

যদিও বিবেকের চিকিৎসক ডঃ রাজু সিভাসামি জানিয়েছেন, এদিন রাত ২ টো নাগাদ তাঁর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এরপর ভোর ৪ : ৪৫ মিনিট নাগাদ মারা যান তিনি।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, শুক্রবার নিজের বাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন বিবেক। তাঁর হার্ট পুরোপুরি ব্লক হয়ে গিয়েছিল। এরপর কমেডিয়ান এই অভিনেতাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাঁর অ্যাঞ্জিওপ্ল্যাস্টি করান। তারপর তাঁকে একমো (ECMO) সাপোর্ট দিয়ে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছিল। তবে এত ধকল সহ্য করতে পারেননি অভিনেতা বিবেক। শনিবার ভোরবেলা পরলোক গমন করেন তিনি।

মৃত্যুকালে বিবেক রেখে গিয়েছেন তাঁর স্ত্রী আরুলসেলভী, দুই কন্যা তেজস্বিনী এবং অমৃতা নন্দিনী। তাঁর ছেলে প্রসন্ন কুমার মাত্র ১৩ বছর বয়সে মস্তিকের জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে।

১৯৬১ সালের ১৯ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন বিবেক। অল্প বয়স থেকেই তাঁর অসামান্য অভিনয় দক্ষতা তামিল সিনে জগতে তাঁকে ভালো জায়গা করে দিয়েছিল। বিবেক ১৯৮৭ সালে কে বালাচন্দ্রের মানাথিল উরুধি ভেন্ডমের মাধ্যমে তামিল সিনেমায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। কয়েক বছর ধরে, তিনি বলিউডের অন্যতম সন্ধানী কৌতুক অভিনেতা হয়ে ছিলেন। তাঁর হাস্যরসে ভরা সিনেমাগুলি সামাজিক বার্তা দেয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, এটি মানুষকে শিক্ষিত করতে সহায়তা করবে। তিনি ‘চিননা কালীভানর’ নামেও সুপরিচিত ছিলেন।

৯০ এর দশক থেকে ২০০০ এর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বিবেকের খ্যাতি ছিল আকাশ ছোঁয়া। তিনি রজনীকান্ত, বিজয়, অজিথ, সুরিয়া, বিক্রম এবং ধনুশ সহ শীর্ষস্থানীয় সব তামিল অভিনেতাদেরর সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। কামাল হাসানের সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করা তাঁর স্বপ্ন ছিল। শঙ্কর পরিচালিত কমল হাসানের ইন্ডিয়ান ২-তে একটি ভূমিকায় অভিনয় করতে পেরে তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল।

বিবেক অভিনীত কয়েকটি সেরা চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে মানাথিল উরুঠি ভেন্ডুম, পুধু পুধু আর্থঙ্গল, কেলাদি কানমণি, কদল মান্নান, ভালি, মিন্নালে, ডুম ডুম ডুম, রান প্রভৃতি। শুধু তাই নয়, বিবেক বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতেন। ২০০৯ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি।

চলচ্চিত্র ছাড়াও বিবেক তাঁর জনহিতকারক কাজকর্মের জন্যও পরিচিত ছিলেন। তিনি স্বামী বিবেকানন্দ এবং এপিজে আবদুল কালামের প্রশংসক ছিলেন। প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি কালামের পরামর্শের ভিত্তিতে, বিবেক তামিলনাড়ুতে এক বিলিয়ন গাছ লাগানোর মিশন গ্রহণ করেছিলেন। তিনি এ পর্যন্ত ৩০ লক্ষ গাছ লাগিয়েছিলেন। ডেঙ্গু সম্পর্কিত সচেতনতা তৈরিতে বিবেক তামিলনাড়ু সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছেন। যিনি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম গুণমুগ্ধ ছিলেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.