দার্জিলিং ও কলকাতা: অনড় কে হবে, কোন পক্ষ ঝুঁকবে তা নিয়েই প্রশ্ন। উত্তরের আশায় তাকিয়ে দার্জিলিং জেলার ৮৭টি চা বাগানের শ্রমিকরা। ২০ শতাংশ বোনাস না মিললে ফের লাগাতার ধর্মঘটের পথই খোল রাখছে চা শ্রমিকদের যৌথ মঞ্চ। বাগান মালিক পক্ষ, শ্রমিক সংগঠন ও সরকারের ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ঘিরে দোদুল্যমান দার্জিলিং চা শিল্প।

অভিযোগ, চা শ্রমিকদের এই বৃহত্তর আন্দোলন এড়িয়ে গিয়েছেন দার্জিলিংয়ের বিজেপির সাংসদ। তাঁর ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এদিকে কলকাতায় বৈঠক শুরুর আগে শুক্রবার সকাল থেকেই পাহাড় ও ডুয়ার্সের বিভিন্ন বাগানের গেটে জড় হতে শুরু করেছেন শ্রমিকরা। তাঁদের দাবি মানা হলে শুরু হবে আমরণ অনশন। এমনই জানিয়েছেন তাঁরা। শারদোৎসবের ঠিক আগেই ৮০ হাজারের বেশি চা শ্রমিকের ১২ ঘণ্টার ধর্মঘটে অচল হয়েছিল দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা। বিচ্ছিন্ন হয়েছিল শিলিগুড়ি। এতেই বিরাট প্রভাব পড়ে চা ও পর্যটন শিল্পে।

এরপর বোনাসের দাবি না মিটলে লাগাতার অনশন ও ধর্মঘটের কারণে সেই অবস্থা আরও ঘোরালো হবে বলেই আশঙ্কা। রাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর শনিবারই দার্জিলিঙে জনসভার ডাক দিয়েছে শ্রমিকদের সংযুক্ত মঞ্চ। এতে আছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা ও বামেরা। চাপে পড়ে তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসও সায় দিয়েছে লাগাতার আন্দোলনের।

চা শ্রমিকদের সংগঠন চিয়া কামান মজদুর ইউনিয়নের দার্জিলিং জেলা সম্পাদক তথা প্রাক্তন বাম সাংসদ সমন পাঠক জানিয়েছেন, আমরা ২০শতাংশ বোনাসের দাবি নিয়ে বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছি। আমাদের দাবি মান্যতা পেলে ভালো, নইলে চকবাজারের সমাবেশ থেকেই আমরা পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করব। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে, দার্জিলিংয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার অনড় মনোভাবে। সংগঠনের সভাপতি বিনয় তামাং শুরু করেছেন অনশন। তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে শুরু করেছেন। জলের অভাবে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েছেন। তবে অনশন চলবে বলেই জানিয়েছেন তামাং। তাঁর সঙ্গে দেখা করেন প্রাক্তন সাংসদ সমন পাঠক।

শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক জানান, চা বাগানের মালিকপক্ষ ১৫শতাংশ পর্যন্ত বোনাস দিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু ট্রেড ইউনিয়ন ১৯শতাংশের নিচে নামতে চায়নি। এখন অনশন শুরু করার পর ২০ শতাংশ দাবি করছে। কতটা করা যায় আমরা দেখব। তিনি জানিয়েছেন, সরকার তো বোনাস দেবে না। বোনাসের টাকা দেবে মালিকরা। আমরা চাই বোনাস ইস্যুটা শুক্রবারই মিটে যাক।