ওয়াশিংটন: হাতের নাগালেই ছিল তালিবান প্রধান৷ অথচ কোনও খবরই ছিল না সেনার কাছে৷ মার্কিন সেনাঘাঁটি থেকে পায়ে হাঁটা দূরত্বেই গোপন আস্তানা তৈরি করেছিল তালিবান জঙ্গি সংগঠনের প্রধান মুল্লাহ মহম্মদ ওমর৷ সদ্য প্রকাশ পাওয়া একটি রিপোর্ট এমনই তথ্য দিচ্ছে৷

তথ্য বলছে সিক্রেট রুম তৈরি করেছিল মুল্লাহ ওমর৷ যা আফগানিস্তানে আমেরিকার সেনা ঘাঁটির খুব কাছেই ছিল৷ কিন্তু টের পায়নি মার্কিন সেনা৷ ওই গোপন ঘাঁটি থেকেই তৈরি হয়েছে বড় বড় হামলার ব্লু প্রিন্ট৷ করা হয়েছে নাশকতার ছক৷ সবই হয়েছে মার্কিন সেনার নাকের ডগায়৷

ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল ও দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত হওয়া ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, যে বাড়িতে গোপন আস্তানা তৈরি করেছিল মুল্লাহ ওমর, সেই বাড়িটিতে একাধিকবার তল্লাশিও চালিয়েছে মার্কিন সেনা৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই সিক্রেট রুমের হদিশ পায়নি তাঁরা৷ 9/11 হামলার পর মুল্লাহ ওমরের মাথার দাম ধার্য করা হয়েছিল ১০ মিলিয়ন ডলার৷ আমেরিকা বরাবর বলে এসেছে ওসামা বিন লাদেনের মত মুল্লাহ ওমরও পাকিস্তানেই লুকিয়ে রয়েছে৷

প্রখ্যাত ডাচ সাংবাদিক বেট্টে ড্যাম ২০০৬ সাল থেকে আফগানিস্তানে রিপোর্টিংয়ে যুক্ত ছিলেন৷ সেই গ্রাউন্ড জিরো থেকেই চোখে দেখা অভিজ্ঞতা সম্বল করে এই রিপোর্ট তৈরি করেন তিনি৷ এই রিপোর্টে ওমরের অবাধ বিচরণ নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন ড্যাম৷ রিপোর্টে ওমরের দেহরক্ষী জাব্বার ওমারির সূত্র তুলে ধরেছেন তিনি৷ ওমারি ২০০১ সাল থেকে মুল্লাহ ওমরের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করত৷

প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মুল্লাহ ওমর প্রথম দিকে আফগান গভর্নরের বাসভবন থেকে কিছু দূরে প্রাদেশিক রাজধানী কালাতে থাকত৷ সেখানেই গোপন ঘাঁটি ছিল তার৷ তারপর নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকা বদল করে লাগমান এলাকায় মার্কিন সেনাঘাঁটির খুব কাছে থাকতে শুরু করে৷ গোটা বিষয়টিকেই মার্কিন গোয়েন্দা ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেছেন ওই সাংবাদিক৷