হায়দরাবাদঃ করোনার জেরে তলানিতে বিশ্ব অর্থনীতি। ভারতেও এবার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা। ইতিমধ্যে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে ২০০৯ এর থেকেও এবার খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে পারে গোটা বিশ্ব। এই আশঙ্কার মধ্যেই বড় কোপ বেতনে। সরকারি কর্মীদের বেতনে বড় কোপ তেলেঙ্গানা সরকারের। তেলেঙ্গানার সরকারি কর্মীদের বেতন কাটা যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে জানানো হয়েছে। জানা যাচ্ছে, সরকারি কর্মীদের বেতন ১০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে। পদস্থ কর্মচারীদের বেতন সবচেয়ে বেশি কাটা যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত পরিস্থিতিতে মহারাষ্ট্র সরকার মার্চ মাসে জনপ্রতিনিধিদের বেতনের ৬০ শতাংশ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে ও অর্থমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এই সংক্রান্ত নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়ক, বিধান পরিষদ সদস্য সহ সমস্ত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মার্চ মাসের বেতনের ৬০ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে।

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারীর ফলে মন্দা শুরু হয়েছে অর্থনীতিতে। ভারতের অর্থনীতিতেও এই মন্দার প্রভাব পড়তে চলেছে। ইতিমধ্যেই তেলঙ্গানা সরকার জানিয়েছে, সরকারি এক্সিকিউটিভ, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মীদের বেতন কমানো হবে। এছাড়াও বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং যে সংস্থাগুলি সরকারি অনুদান পেয়ে থাকে সেখানেও কর্মীদের বেতন কমানো হবে। এরই পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও কম পেনশন দেওয়া হবে। মূলত সে রাজ্যের অর্থনীতির অবস্থা সামাল দিতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই নির্দেশে ব্যাপক ক্ষুব্ধ কর্মীরা।

মারণ ভাইরাস ক্রমেই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে তেলেঙ্গানাতেও। ইতিমধ্যেই তেলেঙ্গানায় ৭৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আগামী কয়েকদিনে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন।

লকডাউন চলাকালীন দেশের প্রতিটি নাগরিককে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরোতে নিষেধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যগুলিকেও ব্যাপারে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ করতে আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দিন কয়েক আগেই তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর রাও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন,লকডাউন না মানলে দেখামাত্র গুলি করা হবে। যদিও চন্দ্রশেখর রাও-এর এই হুঁশিয়ারি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।