কলকাতা: সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে সম্ভবত আগামী সপ্তাহেই টালা ব্রিজ ভাঙার কাজ শুরু হবে। নতুন এই টালা ব্রিজ হবে চার লেনের। ব্রিজ গড়তে খরচ হবে ২৬৮ কোটি টাকা। চিৎপুর রেলইয়ার্ডের কাছে কয়েকদিনের মধ্যেই লেভেল ক্রসিং তৈরির কাজ শুরু করবে রেল। লেভেল ক্রসিং তৈরির পরই দ্রুত ব্রিজ ভাঙার কাজ শুরু হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

গত বছরের শেষ দিক থেকেই টালা ব্রিজ ভাঙা নিয়ে রাজ্য ও রেলের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হয়। একাধিকবার রাজ্য ও রেলের কর্তারা টালা ব্রিজ ঘুরে দেখেন। ব্রিজ ভাঙলে আশেপাশের এলাকায় তার কী প্রভাব পড়তে পারে সে বিষয়েও দফায় দফায় চলে আলোচনা। সম্প্রতি পূর্ব রেলের সদর দফতর ফেয়ারলি প্লেসে রাজ্য ও রেলের আধিকারিকদের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে টালা ব্রিজ নিয়ে টাস্ক ফোর্স তৈরির কথা বলা হয়েছিল। রেল ও রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারদের টাস্ক ফোর্সে রাখবার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। একইসঙ্গে টালা সেতুতে ‘কেবল ব্রিজ’ তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল।

ইতিমধ্যেই টালা ব্রিজ তৈরির বরাত নিয়ে দরপত্র দিয়েছে রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, দরপত্র অনুযায়ী বরাত পাওয়া সংস্থাকে আগামী ১০ বছরের জন্য নতুন ব্রিজের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হবে। নতুন করে চার লেনের টালা ব্রিজ তৈরি করা হবে। নতুন টালা ব্রিজ গড়তে ২৬৮ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। কাজ ঠিকঠাক এগোলে এক বছরের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে নতুন টালা ব্রিজ।

২০১৯ সালের শেষের দিকে টালা ব্রিজের বেহাল দশার খবর প্রকাশ্যে আসে। দীর্ঘদিন মেরামতি না হওয়ায় ব্রিজের একাধিক অংশের চাঙর খসে পড়ছিল। এরপর বিশেষজ্ঞ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজ্য। বিশেষজ্ঞরা ব্রিজের অবস্থা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেন নবান্নে। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরই টালা ব্রিজে তড়িঘড়ি যান নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। টালা ব্রিজ দিয়ে বড় যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।

টালা ব্রিজের বেহাল দশার কথা জেনে শেষমেশ ব্রিজটি ভেঙে ফেলে নতুন ব্রিজ তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। টালা ব্রিজের নীচ দিয়েই গিয়েছে রেললাইন। আর তাই ব্রিজ ভাঙা ও নতুন ব্রিজ তৈরি নিয়ে রেলের সঙ্গেও যোগাযোগ শুরু করে রাজ্য। রেল ও রাজ্য প্রশাসনের কর্তাদের মধ্যে দফায়-দফায় বৈঠক হয়। ব্রিজ ভেঙে নতুন ব্রিজ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন টালা ব্রিজের নকশাও চূড়ান্ত করেন রেল ও রাজ্যের কর্তারা।

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।