শিলিগুড়ি: ফেব্রুয়ারিতে একটি আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট খেলতে পাড়ি দিয়েছিলেন স্পেন। কিন্তু আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট যে এভাবে বিভীষিকার কারণ হয়ে উঠবে, ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তাকেমে সরকার। মহামারী করোনার জেরে তিনমাস স্পেনেই আটকে থাকার পর অবশেষে আশার আলো দেখেছেন শিলিগুড়ি নিবাসী তাকেমে। আগামী ৩১ মার্চ স্পেন থেকে বিশেষ বিমানে দেশে ফেরার ব্যবস্থা হয়েছে দেশের ১৪ নম্বর প্যাডলারের।

তবে স্পেন থেকে সরাসরি কলকাতায় নামার ব্যবস্থা না থাকায় তাকেমেকে নামতে হবে নয়াদিল্লিতে। সেখান থেকে শিলিগুড়িতে নিজের বাড়ি পৌঁছনোর জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাকেমে। আপাতত মাদ্রিদ থেকে ৪০০ কিমি দূরে একটি শহরে আটকে রয়েছেন তিনি। সেখান থেকে দেশে ফেরা প্রসঙ্গে বঙ্গ প্যাডলার পিটিআই’কে জানিয়েছেন, ‘অবশেষে প্রার্থনায় সাড়া পেয়েছি। ৩১ মে ভারতীয় দূতাবাসের সহযোগীতায় দেশে ফেরার একটি বিমানের বন্দোবস্ত হয়েছে।’

কিন্তু দেশে ফেরার পরেও তো চিন্তা কমে যাওয়ার নয়। স্পেন থেকে ফিরে নয়াদিল্লিতে নেমে প্রোটোকল মেনে তাঁকে ফের থাকতে হবে ১৪দিনের কোয়ারেন্টাইনে। কিন্তু তিনমাস স্পেনে আটকে থেকে বর্তমানে আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত তাকেমে এখানেই রাজ্য সরকারের সাহায্যের আবেদন করেছেন। ২৭ বছরের প্যাডলার জানিয়েছেন, ‘এই তিন মাসে ইতিমধ্যেই আমার প্রচুর টাকা চলে গিয়েছে। আমার দুটো বিমানের টিকিট বাতিল হয়েছে যার মধ্যে একটা রিটার্ন টিকিট আমায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হয়েছিল। সুতরাং, আমার পক্ষে দিল্লি পৌঁছে ফের কোয়ারেন্টাইনে থাকা খুব কঠিন হয়ে যাবে। তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আমি আমার ঘরে ফেরার বন্দোবস্ত করে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এরইমধ্যে তাকেমের পরিবারে ঘটে গিয়েছে একটি মর্মান্তিক ঘটনা। তাকেমের এক তুতো ভাইয়ের পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে নিরাপদে তাকেমের ঘরে না ফেরা অবধি প্রবল উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে তাঁর পরিবার। তাঁর সঙ্গে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করা অন্যান্য প্যাডলাররা ঘরে ফিরে গেলেও স্পেনের অ্যাপার্টমেন্টে একা এক দুঃসহ অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করেই অবশেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাকেমে। লকডাউনে সমস্ত দোকান-পাট বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ দিন নিজেই ডাল-খিচুড়ি বানিয়ে খেয়েছেন তিনি। অবশেষে দেশে ফিরে এবার একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবেন। বলছিলেন তাকেমে।