নিউ দিল্লি: শেষ কুড়ি বছরে দিল্লিবাসী কবে আগুনের এমন ভয়াবহ রূপ দেখেছেন তা মনে করতে পারছেন না অনেকেই। আগুনের লেলিহান শিখার জেরে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৪৩ জনের। বেশ কয়েকজন এখনও হাসপাতালে ভর্তি। এই বিধ্বংসী আগুন পুরোপুরি নাড়িয়ে দিয়েছে রাজধানীকে।

এরই মধ্যে সামনে এল এক মর্মান্তিক ঘটনা। মৃত্যু আসন্ন বুঝতে পেরে সব শেষ হওয়ার ঠিক কয়েক মিনিট আগে ভাইকে ফোন করেছিলেন মুশারফ আলি। যিনি আসলে ওই মৃত ৪৩ জনের একজন।

মৃত্যুর আগে নিজের পরিবারের কথাই তাঁর সবচেয়ে বেশি মনে পড়েছিল। আর টাই ফোন করেছিলেন তাঁর ভাইকে। নিজের শেষ ফোন কলে তিনি বলেন, “আমি মারা যাচ্ছি ভাই। চারিদিকে আগুন… পালাবার কোনও পথ নেই। আমি আর বাঁচব না ভাই। কাল এসে আমায় নিয়ে যাস। ” পাশাপাশি নিজের পরিবারের দায়বদ্ধতাও ফুটে উঠেছিল মৃত্যু সময়ে মুশারফ আলি-র গলায়। তিনি জানান, ” আমার পরিবারকে দেখিস ভাই… আমি শ্বাস নিতে পারছি না… আমাকে এসে নিয়ে যাস… পরিবারকে দেখিস।”

ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে এই মর্মান্তিক অন্তিম ফোন কলের ভয়েস রেকর্ডিং। গত চার বছর ধরে দিল্লির এই কারখানায় কর্মরত ছিলেন মুশারফ আলি। বাড়িতে তাঁর রয়েছে স্ত্রী, পুত্র ও তিন কন্যা। ভরা সংসার থাকলেও বিধ্বংসী আগুন কাড়ল প্রাণ।

আরও পড়ুন – স্কুলে ছাত্রদের দিয়ে বডি ম্যাসাজ করানোর অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

রবিবার রাজধানী দিল্লিতে ভোর রাতে রানি ঝাঁসি রোডের একটি চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ আগুন লাগে। কারখানার ভিতরে ছিলেন বহু শ্রমিক। ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তৎক্ষণাৎ পুলিশ ও দমকলে খবর পাঠান। ওই বহুতলে আগুনের ধোঁয়ায় দম আটকেই মৃত্যু হয় অন্তত ৪৩ জনের। এর মধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রায় ৫০ জনকে উদ্ধার করেছেন দমকলের আধিকারিকরা।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই কারখানায় কার্যত গাদাগাদি করে ঘুমোন প্রচুর শ্রমিক। তাঁদের অনেকেই আশপাশের কারখানাতেও কাজ করেন। অন্য দিকে কারখানায় অগ্নি নির্বাপণের যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না বলেই প্রাথমিক অনুমান দমকলের। এ নিয়ে আলাদা করে তদন্ত শুরু করেছেন দমকল আধিকারিকরা।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও