দার্জিলিং এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে পৌঁছে যান তাকদা। চাকদা এক্সপ্রেসের কথা বলছি না, বলছি তাকদা। যা গরম পড়েছে চাকদা গেলে আরও গা গলা চিরবিরিয়ে যেতে পারে। চলে যান সোজা দার্জিলিং থেকে সামান্য দূরেই তাকদায়। ভোটের চিন্তা নেই। ছেলেপুলে থাকলে গরমের ছুটি পরে গিয়েছে আর এই বৈশাখে সদ্য বিয়ে করলে গায়ে লেপ দিয়ে হালকা রোম্যান্সের জন্য সেরা জায়গা হতেই পারে তাকদা।

কলকাতায় এখন তাপমাত্রা ৪০ ছুঁই ছুঁই, তাকদায় এখন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৬ ডিগ্রি যাচ্ছে। ভেবে দেখুন , এই গরমে পচবেন নাকি টুক করে এক ছুটে টাকডুম টাকডুম করে তাকদা চলে যাবেন? বেশী নয় পকেটে জনপ্রতি তিন হাজার ধরলেই ভালোভাবে ঘোরা হয়ে যাবে তাকদা। বিশেষ করে যারা বেড়াতে গিয়ে ঘুরঘুর না করে একটু রেস্ট নিতে পছন্দ করেন নিরিবিলিতে তাদের আরও পছন্দের হটে পারে এই হলিডে ডেসটিনেশন।

‘তাকদা’ বা স্থানীয় ভাষায় ‘তুকদা’ কথার অর্থ হল ‘মেঘে ঢাকা’। বস্তুত পক্ষেই পাহাড়ী ঢালে মেঘে ঢাকা সবুজে মোড়া এই গ্রাম। দার্জিলিং জেলার সুদৃশ্যতম চা বাগান গুলির সন্ধান মিলবে এই তাকদাতেই। দার্জিলিং থেকে মাত্র ২৮ কিলমিটার দূরত্ব তাকদার। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে তাকদার দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। উনিশ শতকের গোড়ায় ব্রিটিশ কলোনির অন্যতম এক ঠিকানা ছিল তাকদা। ব্রিটিশ মিলিটারি ক্যান্টনমেন্ট থেকে শুরু করে ব্রিটিশদের সুদৃশ্য বাংলোর দেখা আজও মেলে এখানে।

সবুজ পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই গ্রাম যদিও এখনও সুপ্ত ডেস্টিনেশন। দার্জিলিং এর সবচেয়ে সুন্দর, পাহাড়ী ঢালে সুবিন্যস্ত চা বাগান রংলি-রংলিয়ট চা বাগান এখানেই। এছাড়া গিলে নামরিং, তিস্তা ভ্যালি চা বাগানগুলিও এখানেই। নানা পাখির ডাকে ও রূপে- গন্ধে- শোভায় সে যেন এক মায়াবী পরিবেশ।

তাকদা থেকে কাছেপিঠে দর্শনীয় স্থান প্রচুর। রংলি রংলিয়ট চা বাগান থেকে আরেকটু নিচের দিকে ২ কিমি নামলেই গিলে ভনজং বাজার ক্রশিং ভিউ পয়েন্ট। এখান থেকে দাঁড়িয়ে আপনি কালিম্পং, দুরপীন, টাইগার হিল, রাম্বি খোলা প্রভৃতি জায়গা গুলির দেখা পাবেন। এ দৃশ্য এক কথায় অনবদ্য। এছাড়া তাকদা বাজার থেকে ৬ মাইল যেতে রয়েছে তাকদা অর্কিড সেন্টার। রং বেরংয়ের অর্কিডে আপনি মুগ্ধ হবেনই। তাকদা থেকে তিন কিমি দূরেই রয়েছে আরেক পাহাড়ী হ্যমলেট তিনচুলে।

এই তিনচুলে এখন বেশ পরিচিত টুরিস্ট ডেস্টিনেশন। তিনচুলে থেকে তিস্তা ও রংগিত নদীর সংগম স্থল এক দূর্দান্ত দৃশ্য। এছাড়া তাকদা থেকে লামাহাট্টা, দুর্পিন, পেশক, মংপু , ছোট মাংগাওয়া সবই ১২-১৪ কিমির মধ্যে। তাই দিনে দিনেই ঘুরে আসা যায়। ছোট একটি মনাস্ট্রিও আছে তাকদা তে। দেখতে ভুলবেন না। এই মনাস্ট্রির শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ মনে আনে প্রশান্তি।

তাকদাতে থাকবার জন্য হোমস্টে রয়েছে। সবমিলিয়ে এই স্বর্গীয় পরিবেশ ছোট্ট কিন্তু সুন্দর ছুটি কাটানোর এক আদর্শ ডেস্টিনেশন হতে পারে ছোট্ট গ্রামটি। তথ্যসূত্র ও ছবির সৌজন্যে – হিমালয়ান রিট্রিট