সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: তাঁকে যদি স্বাধীনতাপূর্ব ভারতের অন্যতম বড় সেলিব্রেটি এবং ব্র্যান্ড আম্বাসাডর বলা হয় তাতে কোনও ভুল হবে না। একের পর এক পণ্যের বিজ্ঞাপনে থাকত তাঁর লেখা, তাঁর নাম, তাঁর ছবি। আর বলা হয় তিনি একবার যে পণ্যের হয়ে কলম ধরতেন তার ব্র্যান্ড ভ্যালু হু হু করে বেড়ে যেত। বিক্রি হতো দেদার।
এই যেমন আজকে শাহরুখ খান কিংবা বিরাট কোহলি, ধোনি, রোহিত , ঋত্বিক রোশনরা বিজ্ঞাপন করলে আপনি সেই পণ্যটি একবার হলেও কিনে দেখার চেষ্টা করেন ঠিক তেমনই ছিলেন রবীন্দ্রনাথও। জানা যায়, অন্তত ১০০টি পণ্যের বিজ্ঞাপন করেছেন রবীন্দ্রনাথ। তখন ভারতে টিভি ছিল না। পত্রিকা, ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপনে থাকত তাঁর নাম, লেখা, আঁকা, ছবি।
‘পূরশ্রী’ পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, ১৮৮৯ থেকে ১৯৪১ এই সময়কালে ঘি থেকে ক্রিম, মিষ্টি, হারমোনিয়াম , এনার্জি ড্রিংক, কালী, কলম, কোনওকিছুই বাদ ছিল না। দাড়ি ভরা মুখেই কামাল করতেন তৎকালীন ভারতের ব্র্যান্ড আম্বাসাডর|
রবীন্দ্রনাথের অন্যতম জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন জলযোগ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের জন্য ছিল। বিজ্ঞাপনে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘জলযোগের বানানো মিষ্টান্ন আমি চেখে দেখেছি। এটা আমাকে তৃপ্তি দিয়েছে। এর আলাদা স্বাদ আছে।’ শ্রীঘৃত সম্পর্কে তিনি লিখে দেন, ‘বাংলায় ঘিয়ের ভেজাল বাঙালির অন্ত্রের ভেজালকেও অনিবার্য করে তুলেছে। আমি আশা করি শ্রীঘৃত বাঙালির এই ভেজাল রোগের প্রতিকার করবে’।
লিপটন চায়ের জন্য রবীন্দ্রনাথ-বিজ্ঞাপন করতে গিয়ে লিখেছিলেন, ‘চা-স্পৃহ চঞ্চল, চাতকদল চল, কাতলি-জল তল,কলকল হে’। রবি ঠাকুর ওই কোম্পানির চা প্রেমী অতএব সবাইকে চেখে দেখতেই হবে সেই চা। আর দেখে কে। ওই কোম্পানির চাতকের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে গিয়েছিল।
রেডিয়াম ক্রিমের বিজ্ঞাপনে তিনি লিখেছিলেন, ‘রূপচর্চার জন্য স্নো ও ক্রিমজাতীয় প্রসাধন যারা ব্যবহার করেন, তারা রেডিয়াম ফ্যাক্টরির তৈরি ক্রিম ব্যবহার করে দেখুন, বিদেশি পণ্যের সঙ্গে এর কোনো পার্থক্য খুঁজে পাবেন না। ’
 সুলেখা কালির বিজ্ঞাপনে রবি ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘সুলেখা কালি। এই কালি কলঙ্কের চেয়েও কালো। ’ সেনোলা রেকর্ড কোম্পানির জন্য কলম ধরেছেন কবি। ভোলানাথ দত্ত এন্ড সন’স লিমিটেডের কাগজ, তার জন্যও আম্বাসাডর হয়েছেন তিনি। ডরকিনস হারমোনিয়াম কোম্পানির জন্যও বিজ্ঞাপন করেছেন রবি ঠাকুর। সব মিলিয়ে বলা যেতেই পারে সেই সময়ের সবথেকে বড় তারকা ছিলেন তিনি। যে কোনও ভাবে তার ছোঁয়াটুকু পাওয়া….

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.