স্টাফ রিপোর্টার, কাঁথি: নিজেদের পদ্ধতিগত ত্রুটির ফলে সাংসদকে খুনের চেষ্টায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেও নিজেদের হেফাজতে নিতে পারল না পুলিশ৷ ঘটনার জেরে পুলিশের অন্দরেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে৷ কাঁথি মহকুমা পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিৎ  বসু (গ্রামীণ) বলেন,  ‘‘ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে পেতে সোমবার ফের আদালতে আবেদন জানানো হবে।’’

আরও পড়ুন: নেটজালে জড়িয়ে বাংলা দখলের তথ্যচিত্র বিজেপি’র

রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীকে খুন করতে শনিবার বিকেলে নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে তাঁর বাড়ির তিন তলায় উঠে যায় কাঁথির হৈপুরের বিজয় বর। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক বিশাখাপত্তনামের একটি আইটিসি সংস্থায় কর্মী৷ কয়েকদিন আগে সে বাড়ি এসেছে। তার বাবা বাবলু বর একটি মামলায় দেড় বছর ধরে কাঁথি মহকুমা জেলে বন্দি রয়েছেন।

আরও পড়ুন: অমিত শাহের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা যেতে পারে মমতা ঘনিষ্ঠ শিল্পপতিদের

শনিবার বিকেলে কাঁথি পুরসভায় গিয়ে সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীর ফোন নম্বর জোগাড়ের চেষ্টা করে৷ ফোন নম্বর না পেয়ে সোজা চলে যায় সাংসদ ও মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতে। সেখানে নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে বাড়ির তিন তলায় উঠে পড়ে সে। ভেতরের ঘরে ছিলেন শুভেন্দু৷ মন্ত্রীর ঘরের সামনে চিৎকার করে হুংকার দিতে থাকে সে। এরপরই নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন৷

আরও পড়ুন: লক্ষ্য লোকসভা: নয়াদিল্লির ভারী মাথা এনে বাংলা দখলের ছক বিজেপির

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত যুবকের পরিবার তৃণমূল সমর্থক। স্বাভাবিকভাবেই, তৃণমূল সমর্থক হয়েও কেন দিব্যেন্দু বা শুভেন্দুকে হত্যা করতে সে গিয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷ বাবার জেল বন্দি থাকার সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা৷

এদিকে এই ঘটনার জেরে ফের সামনে এসেছে নিরাপত্তার বেহাল দশাটা৷ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রীর বাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে৷ গোটা ঘটনায় জেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷ পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, তদন্তে সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প