কলকাতা: চিনে করোনাভাইরাস মহামারীর আকার নিয়েছে৷ আতঙ্ক ছড়িয়ে ভারতে৷ বাদ যায়নি পশ্চিমবঙ্গও৷ ইতিমধ্যেই চিনে ৮০ জনেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে৷ আক্রান্ত হয়েছে প্রায় তিন হাজার জন৷ এরই মধ্যে কলকাতার হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে থাইল্যান্ডের এক তরুণীর৷ তবে করোনা ভাইরাসেই তার মৃত্যু কিনা, খোঁজ নিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর৷ এছাড়া দেশের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে কেন্দ্র৷

করোনা ভাইরাস কী?

করোনাভাইরাস শব্দটি ল্যাটিন করোনা থেকে নেওয়া হয়েছে যার অর্থ মুকুট৷ কারণ ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ভাইরাসটি দেখতে অনেকটা মুকুটের মত৷ ভাইরাসের উপরিভাগে প্রোটিন সমৃদ্ধ থাকে যা ভাইরাল স্পাইক পেপলোমার দ্বারা এর অঙ্গসংস্থান গঠন করে৷ এ প্রোটিন সংক্রামিত হওয়া টিস্যু বিনষ্ট করে৷ সকল প্রজাতির করোনাভাইরাসে সাধারণত স্পাইক (এস), এনভেলপ (ই), মেমব্রেন (এম) এবং নিউক্লিওক্যাপসিড (এন) নামক চার ধরনের প্রেটিন দেখা যায়৷ এছাড়া করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি রয়েছে৷

করোনাভাইরাস হলো নিদুভাইরাস শ্রেণীর করোনাভাইরদা পরিবারভুক্ত করোনাভাইরিনা উপগোত্রের একটি সংক্রমণ ভাইরাস প্রজাতি।এই ভাইরাসের জিনোম নিজস্ব আরএনএ দিয়ে গঠিত৷ এর জিনোমের আকার সাধারণত ২৬ থেকে ৩২ কিলোব্যাসের মধ্যে হয়ে থাকে যা এ ধরনের আরএনএ ভাইরাসের মধ্যে সর্ববৃহৎ৷

২০০২ সাল থেকে চীনে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া সার্স (পুরো নাম সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৭৭৪জনের মৃত্যু হয়েছিল৷ আর ৮০৯৮ জন সংক্রমিত হয়েছিল৷ সেটিও ছিল এক ধরণের করোনাভাইরাস৷

করোনা ভাইরাসের লক্ষণগুলি কী কী?

ইনফ্লুয়েঞ্জার মতই উপসর্গ৷ সর্দি কাশি,জ্বর দিয়ে ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়৷ তাপমাত্রা অনেক বেশি বেড়ে যায়৷ নাক দিয়ে জল পড়া৷ হাঁচি,গলা খুসখুস,মাথা ব্যথা৷ গা হাত পা ব্যথা৷ শুকনো কাশি দেখা দিতে পারে৷ প্রায় এক সপ্তাহ পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়৷ অনেক সময় রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়৷ মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে৷

কী করবেন ?

করোনাভাইরাস এর কোন ওষুধ বা চিকিৎসা নেই৷ ভাইরাসনাশক ওষুধের সংখ্যা খুবই কম৷ তবে এই ভাইরাস প্রতিরোধে আগে থেকেই কিছু ব্যবস্থা নেওয়া দরকার৷ যেমন ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া এবং টিস্যু ব্যবহার করা৷ অবশ্যই মাস্ক পরে থাকা৷

কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আসলে ফ্ল্যাবিও ভাইরাস, যা দ্রুত সংক্রামিত হয়৷ চিনের ইউহানের প্রথম করোনা সংক্রণের ঘটনা নজরে আসে৷ তারপর থেকে নতুন নতুন জায়গাতেও ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটে চলেছে৷ মূলত গবাদি পশু থেকে ছড়ায় বলে করোনার ক্ষেত্রে বিপদ অনেক বেশি৷ পশু-পাখি ও গবাদি পশুর সংস্পর্শে থাকা মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি৷ পশুর লোম, মল থেকেই এই ভাইরাস সংক্রমণের প্রবণতা বেশি৷ সরাসরি মানুষের দেহে সংক্রমিত হয় এই ভাইরাস, মানুষ থেকেও পশুর দেহে ছড়াতে পারে৷