নয়াদিল্লি: আজ শিবরাত্রি। মাথায় জল ঢেলে শিবের কাছে বর প্রার্থনা করাই মূল লক্ষ্য। শিব ঠাকুরের চেহারায় প্রত্যেকটি জিনিসের আলাদা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।

শিব সৃষ্টি-স্থিতি-লয়রূপ তিন কারনের কারন, পরমেশ্বর- এটা তার প্রণাম মন্ত্রেই বার বার উঠে এসেছে। তিনি জন্মরহিত, শাশ্বত, সর্বকারণের কারণ।

মনে করা হয়, অর্থাৎ যখন আলো ছিল না, অন্ধকারও ছিল না; দিন ছিল না, রাত্রিও ছিল না; সৎ ছিল না, অসৎ ও ছিল না- তখন কেবলমাত্র ভগবান শিবই ছিলেন।

অর্ধ চন্দ্র: সময়কে চিহ্নিত করে এই অর্ধ চন্দ্র। পুরনো সময় থেকে আজ এবং ভবিষ্যত পর্যন্ত পুরো সময়টাকে ধরে রাখা হয় এই চাঁদে। শিব যে আদি-অনন্তকাল ধরে বিরাজমান, সেটাই প্রমাণ করে এই চাঁদ। তাই শিবকে বলা হয় চন্দ্রশেখর।

গা ভর্তি ছাই: হিন্দু ধর্মে মানব জীবনের সবটাই ছাইতে শেষ হয়ে যায়। তাই ছাই মেখে থাকেন শিব। এই ছাই সাধারণ ছাই নয়। এর পার্থিব গুরুত্বের থেকে বেশি অপার্থিব গুরুত্ব আছে। শিব হলেন ধ্বংসের দেবতা। মৃত্যুই হল জীবনের একটা সত্যি। তাই গায়ে ছাই মেখে থাকেন শিব।

জটা: শিবের মাথায় থাকে জটা। বায়ুর প্রতীক এই শিবের জটাজুট। প্রত্যেকটা জীব প্রশ্বাসে সেই বায়ু গ্রহণ করেন। শিব সব প্রাণের প্রতীক। তাই এই জট।

গঙ্গা: শিবের মাথা থেকে গঙ্গা ঝরে পড়ে। মাথা থেকে জল পড়ে মাটিতে। প্রকৃতিকে উদ্ধ করতে ব্যবহার করা হয় এই জল। তাই তারই প্রতীক এই গঙ্গাধারা। তাই শিবকে বলা হয় ‘গঙ্গাধারা।’

তৃতীয় নেত্র: প্রত্যেক মানুষের তিনটি জিনিস থাকা প্রয়োজন- সমতা, সাধুতা, দুরদৃষ্টি। আর সেটারই প্রতীক এই তৃতীয় নেত্র। যোগের নিয়মে বলা হয় তৃতীয় নেত্র জাগ্রত হলে যুগের ওপারে সব কিছু দেখা যায়।

সাপ: জড়িয়ে থাকা সাপ বোঝায় যে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যতে ঘিরে রয়েছে সেই নাগ। আর এতে থাকে শক্তি, যাকে বলা হয় কুলকুণ্ডলীনি শক্তি। তাকে জাগ্রত করতে হয়।