সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনায় ১০ লক্ষ মানুষকে শিক্ষিত করা হবে ভাবছে অর্থমন্ত্রক। শিক্ষার দিকে উন্নতির একগুচ্ছ পরিকল্পনা কেন্দ্রের। এদিকে গ্রাম বাংলার একদল পড়ুয়ার অর্থের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হতে বসেছিল। ভালো রেসাল্ট করেও ভবিষ্যৎ শেষ হতে বসেছিল। এগিয়ে এসেছে ওরা ক’জন। পাশে দাঁড়িয়ে ওদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নের উজান স্রোতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙয়ের সদস্যরা।

ওরা মাধ্যমিক পাশ করেছে, কেউবা কলেজের চৌকাঠে পা রেখেছে। কিন্তু ওদের বই খাতা কিনে পড়াশোনা চালানোর সামর্থ্য ছিল না। মেঘে ঢাকা তারাদের আলোয় উত্তরণের পথ সুগম করতে এগিয়ে এসেছে একদল সমাজসেবী। যেন ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরের মতো’ এই ভাবনা নিয়েই এগিয়ে এসেছে আমতার উদংয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’।শিক্ষায় স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে উক্ত সংস্থার পক্ষ থেকে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হয়েছে বেশ কিছু সপ্তাহ আগেই। রাজ্যজুড়ে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে স্ট্রিম ও বিষয় বাছাইয়ের পালা।কিন্তু ভালো রেসাল্ট করেও শিমুল,সুদীপ,শ্রাবন্তী,ঈপ্সিতা,পদ্মা,স্বর্ণালি,প্রিয়াঙ্কা,সোমা,সৌরভ,দীপের ন্যায় অসংখ্য পড়ুয়ার আঁধারে পড়েছিল ভবিষ্যৎ। কেবলমাত্র আর্থিক প্রতিকূলতার কারণে তাদের স্বপ্ন ভাঙতে চলেছিল ওদের। হয়ে যায়।গ্রামীণ হাওড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের এমনই বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছে ওরা।

সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পৃথ্বীশরাজ কুন্তী।তিনি বলেন,”ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের প্রয়োজনীয় বইয়ের আবেদন জানাচ্ছেন।ভেরিফিকেশনের পরে যোগ্য ছাত্রছাত্রীকে তার প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই,বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী তুলে দেওয়া হচ্ছে।এমনকি বেশ কিছু ছাত্রছাত্রীর জন্যে ফ্রি-কোচিংয়েরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।” এই সংস্থার থেকে সাহায্য পাওয়া ছাত্রী সোমা মাইতির কথায়, “নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসার আমাদের। বাবা আমাকে পড়াতে কোনোভাবেই রাজি ছিলেন না।কিন্তু এই সংস্থাই আমার বাবাকে বুঝিয়ে পড়াশোনার সমস্ত বন্দোবস্ত করেছে এবং তাঁরাই আমার উচ্চশিক্ষার ব্যয়ভার বহন করবেন।”

বাজারে সবজি বিক্রির কাজে সহায়তা করে সংসার চালানো শিমুলের কথায়, “বছর দুয়েক আগে আমার বাবা মারা গেলে মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনোওরকমে সংসার চালান। ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’ সংস্থাই আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। আমার বোন শিউলির পড়াশোনার সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছে।”

সংস্থার সম্পাদক তাপস পাল বলেন, “বিজ্ঞান বিভাগের প্রতিসেট বইয়ের দাম প্রায় ২৫০০ টাকা,কলাবিভাগ ও বাণিজ্য বিভাগের প্রতিসেট বইয়ের দাম প্রায় ১৬০০ টাকা। এটা ওদের পক্ষে কেনা সম্ভব ছিল না। তাই আমরা ওদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছি। এর বাইরেও রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী। ইতিমধ্যেই এই শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৩০ জন পড়ুয়াকে বই ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর জন্য বিভিন্ন বেসরকারি স্কলারশিপেরও বন্দোবস্ত করা হয়েছে।”

এর পাশাপাশি ১০ জন লড়াকু-মেধাবী পড়ুয়ার জন্য তাদের পক্ষ থেকে ‘পাঠবৃত্তি’ নামক স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।এর জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ অর্থ।মানুষের সহযোগিতাই তাঁদের একমাত্র সম্বল বলে জানান তাপস বাবু।এর পাশাপাশি এই সংস্থার পক্ষ থেকে ছাত্রছাত্রীদের রাখীবন্ধন,দুর্গোৎসব,রবীন্দ্রজয়ন্তীর বিভিন্ন উৎসবেও সামিল করানো হয়।তাই মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তাপসবাবু।তাহলে হয়তো সমাজের অগণিত ছাত্রছাত্রীর স্বপ্নকে বাস্তবতায় মিলিয়ে দিতে তাঁরা সক্ষম হবেন।

প্রসঙ্গত শুক্রবার বাজেট ঘোষণা করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনায় ১০ লক্ষ মানুষকে শিক্ষিত করা হবে। এর সঙ্গে ভাষার ট্রেনিংও দেওয়া হবে। যাতে বিদেশেও কাজ করতে পারে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্সের মতো বিষয়েও ট্রেনিং চলবে যাতে বিদেশেও ভারতের যুবকরা সফল হতে পারে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তৈরি হবে ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশন। শিক্ষা দিকের এই ঘোষণার ফল যথেষ্ট ভালো এবং সুদূরপ্রসারী বলে মনে করছে বণিকসভা।