স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : সুন্দর পৃথিবীর সবাই কম বেশি স্বপ্ন দেখে। কিন্তু,স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে কখনও কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্বাস্থ্য। সেরকমই একজন অর্ঘ্য জানা। গ্রামীণ হাওড়ার বাগনান-১ ব্লকের পূর্ণাল গ্রামের বাসিন্দা। বয়স যখন তিন,তখন থেকেই চলাফেরায় অক্ষম বছর তেরোর এই কিশোর।এখন হাতে পেন ধরতেও সমস্যা হয়।

তবু মা’য়ের কোলে চেপেই স্কুলে যাওয়া। মায়ের সহযোগিতাতেই খাতা,পেন নিয়ে আগামীর স্বপ্ন বোনা।দিন আনা দিন খাওয়া সংসারে ছেলের জন্য হুইল চেয়ার কিনে দেওয়ার সামর্থ্য বাবার নেই।সরকারি-বেসরকারি স্তরে বহু চেষ্টা করেও মেলেনি হুইল চেয়ার। তা ই-স্কুল বাড়ির বাইরে যাওয়া সবক্ষেত্রেই মা’য়ের কোলই ভরসা। অর্ঘ্যর এই হার না মানা লড়াইয়ে সাথী হয়ে এগিয়ে এলো আমতা-২ ব্লকের সৌভিক চৌধুরী। পেশায় শিক্ষক সৌভিক চৌধুরী নিজের ২৭তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে রবিবার অর্ঘ্যের বাড়িতে গিয়ে তার হাতে তুলে দিল হুইল চেয়ার। সাথে একবাক্স চকোলেট।

অমরাগড়ী মেনকা স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের এই তরুণ শিক্ষকের কথায়, ‘প্রতিবছরই নিজের জন্মদিনে পথশিশুদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করি।এবার পরিস্থিতি ভীষণ প্রতিকূল। তাই আমাদের সংস্থার সদস্যদের জানালে তাঁরাই আমায় অর্ঘ্যের বিষয়ে জানান।’ অবশ্য শুধু জন্মদিন নয়,সারাবছরই আমতার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’-এর মাধ্যমে নিজেকে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত রাখেন রসায়ন ভক্ত এই তরুণ শিক্ষক। হুইল চেয়ার পেয়ে খুশি অর্ঘ্য। অর্ঘ্য জানায়, “আমার হুইল চেয়ারটা খুব প্রয়োজন ছিল। আমার পড়াশোনা ও চলাফেরার ক্ষেত্রে অনেকটাই সুবিধা হবে।” অর্ঘ্যর মা প্রিয়ঙ্কা দেবী বিষন্ন স্বরে বলেন,”ছেলেটা ছোটো বেলায় হাঁটাচলা করতে শিখল।কিন্তু,তিনবছর বয়স থেকে ওইযে অক্ষম হয়ে গেল।আর ঠিক হল না।অনেক চিকিৎসা করিয়েছি।কিন্তু আর ঠিক হলনা।”

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা