হাওড়া : করোনার করাল থাবায় দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারগুলোর অবস্থা শোচনীয় হয়ে গিয়েছে। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, যাদের একবেলা খেলে আর একবেলা কী পরের দিনও হয়তো খাবার জোটেনা তাঁদের পুজো নিয়ে হাইকোর্টের রায় মাথায় নেই। বহু মানুষই কর্মহীন হয়েছেন,কেউ আবার নিজের একবেলার ভাতটুকু জোটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন। তবু মা সর্বজনীন।

সবাই আশা করেন দেবীর অসুর দমনকারী রূপে আগমনের অর্থ ওদের মুখেও ফুটবে হাসি, অভাব-অনটনের মাঝেও জ্বলবে শান্তির দীপ্ত শিখা। কিন্তু হয় কোথায়? ওঁদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রতিবারের মতো এবারও ‘আমাদের ছুটি ছুটি’র আয়োজন করল আমতার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’।

উদং তরুণ সংঘের মাঠে একটি ক্ষুদ্র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমতার এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে উদং,ফতেপুর,পূর্ণাল,ভূঁয়েড়া সহ আমতা-১ ও বাগনান-১ ব্লকের ৭-৮ টি গ্রামের ৫০ জন শিশু,কিশোর-কিশোরীর হাতে তুলে দেওয়া হল নতুন জামা ও শিক্ষাসামগ্রী। সংস্থার কর্তা পৃথ্বীশরাজ কুন্তী জানান, ‘উৎসবের আনন্দকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে প্রতিবছরই আমরা ভাগ করে নিই।এবারও আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।’

এদিকে রাজ্যের সমস্ত পুজো প্যান্ডেলে দর্শকদের ঢোকার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশ বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট। অতিমারি পরিস্থিতিতে আদৌ পুজো করার অনুমতি দেওয়া সঙ্গত কি না তা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় সোমবার হাইকোর্ট রাজ্যের সমস্ত পুজো প্যান্ডেলকে ‘নো এন্ট্রি’ জোন হিসাবে ঘোষণা করার নির্দেশ দেয়। বলা হয়েছিল আদালতের নির্দেশ কী ভাবে এবং কতটা মানা হল, তা হলফনামা হিসাবে লক্ষ্মীপুজোর পর আদালতকে জানাতে হবে রাজ্যকে।

রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে ওই আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে ওই হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ‘নো এন্ট্রি’ জোন বিষয়ে আদালতে যায় ফোরাম ফর দুর্গোৎসব। পাশাপাশি ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের পক্ষে যে আবেদনগুলি করা হয়েছিল, তার মধ্যে মণ্ডপের ভিতরে ১০০ জনকে থাকার অনুমতি চাওয়া হয়েছিল৷ স্থানীয়দের প্রবেশাধিকারও চাওয়া হয়৷

মণ্ডপে প্রবেশ এবং বেরনোর আলাদা পথ থাকবে বলেও পুজো উদ্যোক্তাদের তরফে আদালতে জানানো হয়৷ সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী পুজোয় আগ্রহীদের মণ্ডপের ভিতরে থাকতে দেওয়ারও অনমুতি চাওয়া হয়েছিল ফোরামের তরফে৷ এই সমস্ত আবেদনে বিশেষ সাড়া দেয়নি আদালত৷ পাশাপাশি মণ্ডপের ভিতরে অঞ্জলি দেওয়া, সিঁদুরখেলাও যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত৷

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।