নয়াদিল্লি: সোয়াইন ফ্লুতে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। ইতিমধ্যেই সেই সংখ্যাটা ৩৭৭ ছুঁয়েছে। সংক্রামিত রোগীর সংখ্যাও প্রায় ১২,০০০। স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানাচ্ছে, গত সপ্তাহে সারা দেশে ৬৫ জন মানুষ এইচওয়ানএনওয়ান ভাইরাসের আক্রান্ত হয়েছেন।

রাজস্থানে এই মারণ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৩৫০৮ এবং মারা গিয়েছেন প্রায় ১২৭ জন মানুষ। গুজরাতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৯৮৩ এবং মৃতের সংখ্যা ৭১। দিল্লিতে ২২৭৮ জন আক্রান্ত ও মৃত ৭। পাঞ্জাবে ৪১০ জনের মধ্যে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মধ্যপ্রদেশে ১২৮ জনের মধ্যে ৩০ জন মৃত। হিমাচল প্রদেশে ২২৪ জনের মধ্যে ২৭ জন মৃত। জম্মু ও কাশ্মীরে ২৯৩ জনের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২২জনের। মহারাষ্ট্রে ১৭ জন মারা গিয়েছেন ৩৩০ জন আক্রান্তের মধ্যে।হরিয়ানায় ৭৫২ জনের মধ্যে ৭ জন মারা গিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই মিলছে মৃত্যুর খবর।

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, রবিবার পর্যন্ত এবছর দেশের ১২১৯১ জন মানুষ এই এইচওয়ানএনওয়ান ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। গত বছর ১৪৯৯২ জনের মধ্যে ১১০৩ জন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল সোয়াইন ফ্লুর কারণে। স্বাস্থ্যমন্ত্রক ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারগুলিকে এই রোগের প্রাথমিক শণাক্তকরন ও তাঁর নির্মূলকরণের বিষয়টিতে নজর দিতে নির্দেশ দিয়েছে। আক্রান্ত রোগীরা যাতে হাসপাতালে গিয়ে যথার্থ চিকিৎসা পান এবং তাদের যাতে বেড পেতে সমস্যা না হয় সে বিষয়টিতেও নজর দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জনসচেতনতা বাড়াতে, নিয়মিত মানুষের হেলথ চেক আপ করাতে এবং প্রতিক্রিয়া নিতে। “দ্য ড্রাগ কন্ট্রোল জেনারেল অফ ইন্ডিয়া” কে ভারতের ওষুধ নির্মাণকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

স্বাস্থ্যকর্মীদেরও টীকাকরণের বিষয়টিতে নজর দিতে বলা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ( হু ) প্রস্তাবিত ওষুধ দেশের বিভিন্ন রাজ্য গুলিতে পাওয়া যাচ্ছে কিনা সেই বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

সিসনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা ( এইচওয়ানএনওয়ান) একটি স্ব- সীমিত ভাইরাস। বায়ু বাহিত রোগ যা এক মানুষ থেকে অন্য মানুষের শরীরে সংক্রামিত হয় বিশেষত কাশি এবং হাঁচির মাধ্যমে। করমর্দন, আলিঙ্গন, ও চুম্বনের মাধ্যেও হতে পারে।

এই রোগের লক্ষণ গুলি হল – অনবরত কাশি এবং হাঁচি, জ্বর, গলা ব্যথা, নাক বন্ধ, শরীর ও মাথা ব্যথা ইত্যাদি। তাই এক সপ্তাহের বেশী জ্বর স্থায়ী হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কাশি এবং হাঁচি হচ্ছে এমন কোন ব্যক্তিকে দেখলে তাঁর থেকে দূরে থাকুন। রুমাল দিয়ে নাক – মুখ ঢেকে রাখুন। সাবান দিয়ে হাত ধুন। ঘন ঘন জল পান করুন, ঘিঞ্জি জায়গা পরিত্যাগ করুন।