স্টাফ রিপোর্টার, মহিষাদলঃ ওরা এক একজন সাঁতারে পটু। ছোটো বেলায় পাঠ‍্য বইতে ওরা মাসুদুর রহমানের কথা ইংরেজি চ‍্যানেল পার হওয়ার কথা পড়ে এসেছে। আর তাই থেকেই সাঁতারের প্রতি উদ্বুদ্ধ হওয়া। ওদের সাঁতারের প্রতি অসীম ভালোবাসা থাকলেও নেই ঠিক মতো সাঁতার ব‍্যবস্থার পরিকাঠামো। তবুও এর মধ্যেই ওদের মধ্যে কেউ কেউ আন্তর্জাতিক স্তরের চ‍্যাম্পিয়ন। আর এই প্রতিভাবান ফুলগুলি কি অকালেই ঝরে পড়বে?

সেই ভাবনা ভেবে প্রতি বছর প্রায় পাঁচমাস ধরে সাঁতারের প্রশিক্ষণের ব‍্যবস্হা করা হয়। রবিবার ছিল এই সিজিনের শেষ প্রশিক্ষণ। জেলায় নেই সাঁতার প্রশিক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশ। তাই পুকুরেই ৫০ জন ছেলে-মেয়েকে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের সুদক্ষ সাঁতারু গড়ে তোলার কাজ করে চলেছে মহিষাদলের অলক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তাঁর পরিশ্রম বৃথা যায়নি৷

অলকবাবু ১৯৮১ সালে বিশ্বের দীর্ঘতম ৮১ কিমি সাঁতার প্রতিযোগীতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। আর সেই সাফল্যই তাঁকে আর্মিতে যোগদানের সুযোগ পেয়েছিল। ২০ বছর আর্মিতে কাজ করেছিলেন। আর্মিতে কাজ করার সময় তিনি আর্মির কোচ হয়ে নানা প্রতিযোগী গড়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেও সাফল্য লাভ করেছিলেন। অবসর নেওয়ার পর মহিষদলেই সাঁতার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।

মহিষাদল অ্যাকায়োটিভ ক্লাব নামে একটি সংস্থা খোলেন তিনি। মহিষাদলে সাঁতার প্রশিক্ষণের  উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনও লাভ মেলেনি৷ পরে মহিষদলের ভারত সেবাশ্রমের পুকুরেই এলাকার ছেলে মেয়েদের নিয়ে গত ৮ বছর ধরে প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছেন অলকবাবু। তাঁর কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে কেউ রাজ্যস্তরে, আবার কেউ জাতীয়স্তরে সাঁতার প্রতিযোগিতায় পদক এনে দিয়েছে। রবিবার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ছেলে মেয়েদের নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।