নয়াদিল্লি: বরখাস্তের পরেই গ্রেফতার করা হয় বাংলার কিশোরী সাঁতারুকে যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত কোচ সুরজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করে গোয়া পুলিশ।

বুধবার কোচের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে সাহায্য প্রার্থনা করেছিল বাংলার এক প্রতিশ্রুতিমান কিশোরী সাঁতারু। গত ছ’মাস ধরে গোয়ায় এই বাঙালি কোচ ওই কিশোরী সাঁতারুর সঙ্গে অশালীন আচরণ করত বলে অভিযোগ। মোবাইলে কোচের যৌন হেনস্থার ভিডিও তুলে এবং তা প্রকাশ্যে এনে সাহায্য চেয়েছিল বাংলার এই কিশোরী সাঁতারু। এর দু’দিনের মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় কুকীর্তি সম্পন্ন সাঁতারু কোচ সুরজিৎকে৷

যদিও যৌন হেনস্থার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিল অভিযুক্ত কোচ। কিন্তু গোয়ার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অভিযুক্ত কোচের খোঁজ শুরু করে গোয়া পুলিশ৷ সুত্র ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ দলও পাঠায় গোয়া পুলিশ। এদিন সন্ধ্যায় অভিযুক্ত কোচ সুরজিৎকে দিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে৷ অভিযুক্ত কোচের বিরুদ্ধে আইপিসি ৩৭৬ ধারায় ধর্ষণ, ৩৫৪ ধারায় শ্লীলতাহানী এবং শিশুদের সঙ্গে যৌন নিপিড়নের জন্য পকসো ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়৷

ভোপালে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় সাঁতারুদের নিয়ে গিয়েছিল অভিযুক্ত কোচ সুরজিৎ। কিন্তু প্রতিযোগিতা শেষ হয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গা ঢাকা দেয় সে। জানা গিয়েছে তাকে খুঁজতে ভোপালেও বিশেষ দল পাঠিয়েছিল গোয়া পুলিশ৷

বুধবার কিশোরী সাঁতারু অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার হুগলির রিষড়া থানায় ধর্ষণ, যৌন হেনস্থা-সহ একাধিক অভিযোগ জানিয়েছিল ওই কিশোরীর পরিবার। সোশাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আসরে নেমেছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেণ রিজিজু৷

বৃহস্পতিবারই একাধিক টুইট করে তাঁর মতামত জানিয়ে দেন তিনি৷ টুইটে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী লেখেন, ‘আমি কড়া পদক্ষেপ করেছি। গোয়া সুইমিং অ্যাসোসিয়েশন ওই কোচ সুরজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের চুক্তি বাতিল করেছে। সুইমিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছি, সুরজিৎ যেন দেশের কোথাও চাকরি না-পায়। ফেডারেশন এবং দেশের সর্বক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য।’