সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : মিষ্টির দোকান চার ঘণ্টার খুলছে শুনে যেমন অনেকেই খুশি তেমনই এর মধ্যে রয়েছে ব্যাপক করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা। তাই মমতা বন্দ্যপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তকে বড় ভুল বলে মনে করছেন অনেকেই। তালিকায় রয়েছেন পরিবেশবিদ থেকে শুরু করে নিউট্রেসনিস্ট অনেকেই। কিছু যে গণ্ডগোল হবে না সেই গ্যারান্টি দিতে পারছেন না মিষ্টি ব্যাবসায়ীরাও।

দেশব্যাপী লকডাউনের মধ্যে ফস্কা-গেরোর সিঁদুরে মেঘ নিয়ে চলে আসতে পারে মিষ্টির দোকান খোলার সিদ্ধান্ত। সিঁদুরে মগেহ দেখছেন অনেকেই। অবশ্যই গরু এবং মোষের দুধের ব্যবসা মিষ্টির দোকান বন্ধের কারনে মার খাচ্ছে। যেমন আপাতত অনেক ব্যাবসাই মার খাচ্ছে তেমনই। ভয়ের দিক থাকা স্বত্বেও তাই মিষ্টির সকান খোলার এমন সিদ্ধান্তে প্রশ্ন উঠছে মিষ্টান্ন কি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য? না, বিলাস? একে কি মুদি-সামগ্রী বা সব্জি বা ওষুধের সঙ্গে তুলনা করা চলে? এক মাস রসগোল্লা সন্দেশ লাড্ডু শোনপাপড়ি দই রাবড়ি না-খেলে কেউ মরণাপন্ন হয় গরিব বড়লোক মধ্যবিত্ত কেউ?

ভয়ের কারণ কী? পরিবেশবিদ সৌরভ মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, ‘দুধ সরবরাহ হচ্ছে এবং নষ্ট হচ্ছে, এই যুক্তিতেই কি মিষ্টির দোকান খোলা রাখা সমীচীন? এই বিপুল পরিমাণ দুধ সরকার তো নিজে কিনে নিয়ে উপযুক্ত বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্যাক করে দুঃস্থ, শিশু বা বৃদ্ধদের জন্য বিতরণের ব্যবস্থা করতে পারতেন। বহু জায়গাতেই সাধারণ মানুষের জন্য দুধের প্রয়োজন আছে, সবাই জানেন। সরকার জানেন না, এমন ভাবার কারণ নেই।

মিষ্টির দোকান বারোটা থেকে চারটে পর্যন্ত খোলা, এর অর্থ— সাধারণভাবে অন্তত যে সময়টি পথঘাট সুনসান থাকার কথা, সেই সময়টিও কিছু আমোদগেঁড়ে পথে ভিড় করবে মিষ্টি কেনার অবিমৃষ্যকারী ঝোঁকে। সকালের দিকে লকডাউনের বাঁধ প্রতিদিন ভাঙছে। মিষ্টির দোকান খোলায় তা আরও খারাপ দিকে এগোবে’।

নিউট্রেসনিস্ট অঙ্কিতা সাহা মল্লিক প্রশ্ন তুলেছেন , ‘মিষ্টির দোকানের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যভাণ্ডার এই পরিস্থিতিতে আর কিছু আছে? ভিয়েনঘরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও মিষ্টি-তৈরির অস্বাস্থ্যকর পদ্ধতি সম্পর্কে সরকার ওয়াকিবহাল নন, এ কথা বিশ্বাসযোগ্য? সরাসরি হাতে মাখা হয় সন্দেশ ইত্যাদি নানা রকম মিষ্টান্ন, বহু দোকানে তা প্যাকেটে ভরার সময় সরাসরি হাতের স্পর্শ পায়। হাঁচি কাশি থুতু থেকে বাঁচানোর বা স্বাস্থ্যবিধি-রক্ষার নজরদারি কে করবে, গোটা রাজ্যে শহর মফস্বল গ্রামে হাজার হাজার মিষ্টির দোকানে? এ তো মহামারীকে গলবস্ত্র হয়ে নেমন্তন্ন করে আনা’।

শতবর্ষ পেরনো মিষ্টির দোকান সতীশ ময়রার বর্তমান কর্ণধার সম্রাটবাবু স্পষ্ট জানালেন , ‘মিষ্টির দোকান খুললে দুধ ব্যাবসায়ীদের ভালো হবে ঠিকই কিন্তু মিষ্টি তৈরি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। আমি আমাত দোকানের হালুইকরদের মাস্ক, গ্লভস দিচ্ছি। সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখাচ্ছি আজ থেকে কিন্তু গ্রাম বাংলায় বা ছোটখাটো মিষ্টির দোকানে এসব সম্ভব নয়। এটা ঠিকঠাক রাখতে হলে সরকারকে তদারকি করতে হবে। রাজ্যে সব মিষ্টির দোকানে এমনভাবে তদারকি করা সম্ভব কী?’ গিরীশ চন্দ্র দে ও নকুর চন্দ্র নন্দী শহরের বিখ্যাত মিষ্টি ব্র্যান্ড। তাঁরা এসব প্রশ্নের মুখে পড়তেই চান না। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দোকান বন্ধই থাকবে।