কলকাতাঃ  আয়ুষ্মান ভারত নাকি স্বাস্থ্যসাথী! ভোটের মুখে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে এগিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয়ই। তবে বিনামূল্যে এই পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কি এগিয়ে তা নিয়ে চলছে রাজনৈতিক তরজা। কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের প্রশংসায় একদিকে পঞ্চমুখ বিজেপি নেতারা।

একই সঙ্গে এই রাজ্যে এই প্রকল্প চালু না করার জন্যে বারবার শাসকদলকে আক্রমণ শানান বিজেপিন নেতা-মন্ত্রীরা! পালটা স্বাস্থ্যসাথীর জন্যে পালটা সওয়াল করতে দেখা যায় খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে! তবে বাংলায় এই প্রকল্পের সবথেকে বড় সমালোচকের পরিবারই করিয়ে ফেলল কার্ড। বিশ্বাস না হলে এটাই সত্যি!

ঘটনা ঘটেছে ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুরে। ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরে রীতিমতো লাইন দিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড করিয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ছোট ভাই হীরক ঘোষ এবং খুড়তুতো ভাই সুকেশ ঘোষের পরিবার।

ভোট যত এগিয়ে আসছে দিলীপ ঘোষ থেকে শুরু করে বিজেপির ছোটবড় প্রায় সব নেতা প্রতিটি জনসভায় গলা চড়িয়ে প্রচার করেছেন—স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে কোনও সুবিধা মিলবে না। মোদীর ‘আয়ুষ্মান ভারত’-ই ভালো! এমনকি দিল্লি থেকে আসা বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের গলায় আয়ুষ্মান ভারতের কথা শোনা যায়। সাধারণ মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে বারবার অভিযোগ বিজেপি নেতাদের।

এই অবস্থায় ঝাড়গ্রাম জেলার বিজেপি সভাপতির পরিবার এই প্রকল্পে নাম লিখিয়েছে। যা নিয়ে রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে! হীরক এবং সুকেশ ঘোষের সঙ্গে আবার দিলীপবাবুর শুধু রক্তের সম্পর্কই নেই, দু’জনে বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ পদেও আসীন। হীরকবাবু গোপীবল্লভপুর-২ মণ্ডলের বিজেপির সভাপতি।

সুকেশবাবু আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তিনি বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি। স্বাভাবিকভাবেই স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে সমালোচনার তুবড়ি ছোটানো বিজেপি নেতাদের পরিবার কার্ডের জন্য লাইন দেওয়ায় তুমুল হইচই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অনেকেই কটাক্ষ করে বলছেন, ‘বিজেপি নেতারা মুখে এক বলেন, আর করেন এক।’

উল্লেখ্য ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের কুলিয়ানা গ্রামে বাড়ি দিলীপ ঘোষের। সেই বাড়িতে থাকেন বিজেপির রাজ্য সভাপতির মা পুষ্পলতা ঘোষ, ছোট ভাই হীরক ঘোষ, তাঁর স্ত্রী গঙ্গা ঘোষ এবং তাঁদের ছেলে অরিন্দম। হীরকবাবুর মেয়ে অর্পিতা হাওড়া জেলা হাসপাতালের নার্সিং স্কুলের পড়ুয়া।

এই গ্রামেই থাকেন দিলীপবাবুর খুড়তুতো ভাই সুকেশ ঘোষ, তাঁর স্ত্রী প্রতিমা ঘোষ, ছেলে অভি, দুই মেয়ে অপরূপা এবং অনুরূপা। দিলীপবাবু গোপীবল্লভপুর বা ঝাড়গ্রামে গেলেই মায়ের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি পৌঁছে যান। বেশিরভাগ সময় সেখানেই সারেন খাওয়াদাওয়া।

জানা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি চালু হতেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য আবেদন করেছিল দুই পরিবার। জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে কুলিয়ানা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে হীরকবাবুর স্ত্রী-পুত্র এবং সুকেশবাবুর পরিবারের সমস্ত সদস্য লাইন দিয়ে ছবি তোলেন। স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডও নিয়েছেন তাঁরা।

হীরকবাবু জানিয়েছেন, ‘ছবি তোলার দিন আমি মেয়েকে হাওড়ায় ছাড়তে গিয়েছিলাম। তাই ওই দিন ক্যাম্পে যেতে পারিনি। আমার স্ত্রী ও ছেলে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড পেয়েছে। তবে, এই কার্ড আজ পর্যন্ত কাজে লাগেনি।’ সুকেশবাবুর দাবি, ‘বাড়ির সবাই কার্ড করার জন্য বলছিল, তাই আবেদন করেছিলাম। পরিবারের সবাই এই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পেয়েছে। তবে সুবিধা কী পাব জানি না। লাভ-ক্ষতি কী হবে, সেটা পরের কথা।’

অন্যদিকে, মমতা সরকারের সাধের প্রকল্প স্বাস্থ্যসাথী করার জন্যে দিলীপ ঘোষকেই ধন্যবাদ জানালেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এই কার্ড করানোর জন্য দিলীপ ঘোষকে ধন্যবাদ জানান ফিরহাদ। ফিরহাদ বলেন, “দিলীপবাবুকে অনেক ধন্যবাদ। ওঁ মুখেই আয়ুষ্মান আয়ুষ্মান করেন, মনে তাঁর স্বাস্থ্য সাথীই।”

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.