সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: বাঙালির প্রিয় স্বর্গদ্বার যেন এক ঝটকায় নরকদ্বার। পুরীর জগন্নাথ মন্দির এবং সমুদ্রের মাঝে দাঁড়িয়ে এই অঞ্চল। বাঙালির পুরী ঘুরতে যাওয়ার অন্যতম দুই আকর্ষণ ক্ষেত্র থেকে সবচেয়ে কাছে স্বর্গদ্বার অঞ্চল। শ্রীচৈতন্যকে অক্ষত রেখে গোটা স্বর্গদ্বার ফনীর দাপটে পরিনত হয়েছে নরকদ্বারে।

আরও পড়ুন: ফের টিপু সুলতানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাক প্রধানমন্ত্রী

স্বর্গদ্বার আসলে পুরীর শ্মশানের নাম। বিখ্যাত শ্মশানের নামেই পুরো এলাকার নাম স্বর্গদ্বার। স্থানীয় বিশ্বাস এখানে সৎকার হলে মৃতের স্বর্গযাত্রা হয়। সেই পথ সাইক্লোনের দাপটে অবরুদ্ধ। মৃতদেহের শেষ কৃত্য করার মতোও অবস্থায় নেই স্বর্গদ্বার। সারা রাস্তা লন্ডভন্ড। শুধু দূরে দেখা যাচ্ছে দু-হাত তুলে চৈতন্য দেব তাকিয়ে রয়েছেন বর্তমানে স্বাভাবিক সমুদ্রের দিকে। তাঁর উপরের দিকে তোলা হাত দেখে মনে হবে যেন তিনিও পুরীকে রক্ষা করতে ব্যর্থ, তাই তিনি বোধহয় হাত তুলে নিয়েছেন। ফলত লণ্ডভণ্ড বিখ্যাত স্বর্গদ্বার।

আজ রবিবার থেকে আগামী আরও কয়েকদিন স্বর্গের দ্বার খুলে যেতে সময় লাগবে। রাস্তার অবস্থা দেখলে তাই মনে হবে পথ বন্ধ স্বর্গের, মৃতের আত্মার শেষ যাত্রা হবে হয়তো নরকদ্বার দিয়ে। মৃত কি পাপ করেছিল সে জানে না। চৈতন্য হয়তো বলছেন , ‘পাপ নয়, তুমি ভুল করেছ এমন সময়ে মৃত্যুকে কাছে ডেকে নিয়ে। একটু দাঁড়িয়ে যেতে পারতে। তাহলেই খোলা পেতে পারতে স্বর্গের দ্বার।’ তুমি ব্যর্থ হে মানব, প্রকৃতির রোষানলে তোমার শান্তিতে
পরপারে যাত্রাও বন্ধ।

সমুদ্রের পাশেই একটা বড় চত্বর। এখানেই শেষকৃত্য হয়। কোনওরকমে যারা পথ পেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তাঁদের দাহ করার কাজ চলছে। বাকিদের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে। কতক্ষণের ? জানা নেই। ২০১৯-এর কলকাতা ঠিক এরকম শ্মশান দেখে না। এখানে একসঙ্গে প্রায় দশ বারোটি দেহ পোড়ে খোলা আকাশের তলায় কাঠের চুল্লিতে। দাউদাউ আগুন জ্বলছে চারদিকে। সেই আগুন পোয়াচ্ছে একপাল গরু, কুকুর। এখানে গ্যাসের চুল্লি রয়েছে তবে বিশেষ ব্যবহার হয়য় বলে মনে হবে না। শ্মশান থেকে দু ধাপ নেমে শ্মশানকালী আর ভূতনাথ শিবের মন্দির, তারপর আর একটু নেমে গেলেই সমুদ্র।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের গুরুদোয়ারায় দুই ভারতীয় কূটনীতিককে আটকে হেনস্থা

সমুদ্রের দিকে উড়িষ্যার জনপ্রিয় নেতা বিজু পট্টনায়কের স্মারক, তাঁকে দাহ করা হয়েছিল এই শ্মশানেই। একদিকে সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস, তার সঙ্গে মানুষের কলরব, একটু দূরেই অবিরাম আনন্দমুখর জীবনযাত্রা, আর তার পাশেই জীবন থেকে মৃত্যুর পথ বেয়ে কোনও অনন্ত জীবনের দিকে যাত্রা করার পথ স্বর্গদ্বার শ্মশান, আজ যা পরিনত হয়েছে নরকদ্বারে।