প্রদ্যোৎ দাস, জলপাইগুড়ি: খ্যাতির বিড়ম্বনা৷ বাড়িতে বসে দু’দণ্ড পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জো নেই৷ বাড়িতে রয়েছে শুনলেই সংবাদ মাধ্যম থেকে সাধারণ মানুষের সবাই ভিড় ৷ ফলে এক প্রকার নিজেকে আড়াল করে পুজোর পাঁচ দিন বাড়ি থেকে সময় কাটালেন এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মন৷

সোনা জয় করে আসাধ্য সাধণ করেছেন জলপাইগুড়ির স্বপ্না৷ উত্তরবঙ্গের মানুষের গর্বের নাম স্বপ্না৷ গ্রামে ফেরার সময় উষ্ণ অভ্যর্থনায় ভেসে গিয়েছিলেন তিনি৷ সেই শুরু৷ আজও তার রেশ কাটেনি৷ পথে ঘাটে দেখা হলেই তাকে দেখে ভিড় জমে যায়৷ প্রথম দিকে বিষয়টি উপভোগ্য ছিল৷

মানুষের ভালোবাসায় দায়িত্ব বেড়েছে৷ কিন্তু কমেছে মায়ের হাতে আদর খাওয়ার সময়৷ এখন আর ছুটিতে এসে বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই হয় না৷ নিজের লোকেদের আদন থেকে বঞ্চিত হয়ে হতাষ যেমন ছিলেন স্বপ্না তেমনই অভিমান জমেছিল বর্ম পরিবারের সবার৷

এবার তাই কোনও কথা না বলেই কার্যত চুপি চুপি গ্রামের বাড়িতে হাজিন হন সোনা জয়ী মেয়ে৷ পুজোর পাঁচটা দিন চুটিয়ে আনন্দ উপভোগ করা৷ পরিবারের সকলের সঙ্গে দেখা করা, গল্প, খাওয়া দাওয়া সারা৷ মায়ের হাতের রান্না যেন তুলনাহীন৷ এযেন ঠিক দেবী উমার বাপের বাড়িতে আদর খাওয়ার মতো৷ পুজো শেষে

হঠাৎ কেন এইভাবে বাড়ি ফেরা? স্বপ্না বর্মন বলেন, ‘‘এর আগে এসেছিলাম এত মানুষের সমাগন হয়েছিল যে পরিবারকে সময় দিতে পারিনি। মা বাবার সাথে ভাল ভাবে কথাও বলতে পারিনি। চুপ করে এসেছি এর জন্য কেউ জানতে পারেনি। ভাল লাগছে। তবে সকলের ভালবাসা ও আর্শিবাদে আজকে আমি এখানে আসতে পেরেছি।’’

২০২০-র অলিম্পিকই এখন পাখির চোখ স্বপ্নার। সোমবারই ফের ক্যাম্পে ফিরে যাবেন তিনি। লক্ষ্যে স্থির থেকেই স্বপ্ন পূরণের পথে এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না৷