স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: মুরগির চাষ শুরু করলেন রাজ্যের প্রাণিসম্পদ দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। তবে সেটা যে সে মুরগি নয়, বিরল প্রজাতির মুরগি কড়কনাথ। ইংরেজিতে যাকে বলে, ‘জেটব্ল্যাক’।

এই মুরগির গায়ের রং মিশকালো হলেও মাংস থেকে ডিম, সবই পুষ্টিগুণে ভরপুর। রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, প্রোটিন, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সহ একগুচ্ছ স্বাস্থ্যকর উপাদান। জানা গিয়েছে, কড়কনাথ হল মধ্যপ্রদেশের ঝাবুয়া জেলার মুরগি। এই মুরগির মাংসকে ‘ব্ল্যাক মিট চিকেন’ বলা হয়। সারা পৃথিবীতে মাত্র তিন ধরনের বিএমসি পাওয়া যায়। এ দেশের মধ্যপ্রদেশের কড়কনাথ, চিনের সিলকি এবং ইন্দোনেশিয়ার আয়াম সিমানি।

বাজারে এই মাংসের দাম গড়ে ৭০০-৮০০ টাকা কেজি। এক একটি ডিমের দাম ৪০-৫০ টাকা। ডিমেও প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে। কড়কনাথের মাংসে ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৬, বি-১২ এবং ভিটামিন-ই রয়েছে। এছাড়াও প্রোটিন, নিয়াসিন, ফ্যাট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন এবং নাইকোটিনিক অ্যাসিড রয়েছে। বাজারে এর চাহিদা তুঙ্গে।

তবে মন্ত্রী চাষ করছেন নিজের অনাথ ও বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের জন্য। পূর্বস্থলীর বিদ্যানগর গ্রামে মন্ত্রীর বাড়ি। নিঃস্ব বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এবং অনাথ শিশুদের থাকার জন্য কয়েকবছর আগে তিনি পূর্বস্থলীর দামোদরপাড়ায় একটি বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করেছেন। নাম দিয়েছেন, ‘মানসিক শান্তি ও বিকাশ কেন্দ্র’। বৃদ্ধ ও শিশুদের একইসঙ্গে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানে। ওই বৃদ্ধাশ্রমেই এই বিরল প্রজাতির মুরগির প্রতিপালন করছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “নদীয়ার কৃষ্ণনগরে একজন প্রাণিপালক আমাকে ১৪টি কড়কনাথের বাচ্চা দিয়েছিলেন। আমার অনাথ আশ্রমের শিশুদের ডিম খাওয়ানোর জন্যই নিয়ে এসেছি। এখন ডিমও দিচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে ডিম ফুটে ১৫টি বাচ্চাও হয়েছে। মাংস ও ডিমে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকেও এই মুরগি চাষে আমরা উৎসাহিত করছি।”

উল্লেখ্য, লকডাউন সময় ওই বৃদ্ধাশ্রমেই ছিলেন স্বপন দেবনাথ। ওই বৃদ্ধাশ্রমে রয়েছে একটি বড় প্রার্থনা কক্ষ। হিন্দু, মুসলিম, খ্রীস্টান, বৌদ্ধ, জৈন সকল ধর্মের মানুষের জন্য সব ধর্মের ছবি টাঙিয়েছেন। যাতে কারও প্রার্থনা করতে অসুবিধা না হয়। কারণ, সকল ধর্মের আবাসিকেরা রয়েছেন। লকডাউনের সময় ওই বৃদ্ধাশ্রমেই রসগোল্লা তৈরি করে বিক্রির ব্যবস্থা করেছিলেন মন্ত্রী।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও