নয়াদিল্লি: স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি ভাঙচুর ঘিরে চাঞ্চল্য৷ ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির জহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটিতে (JNU)৷ কে বা কারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে,তা এখনও জানা যায়নি৷ সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, দিল্লির জহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটি (JNU)এর ক্যাম্পাসের ভিতরে বিবেকানন্দের মূর্তি বসানো হয়েছে৷ সেটি গেরুয়া কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল৷ কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিটি উন্মোচন হওয়ার আগেই তা ভেঙে দেওয়া হল৷ তবে কে বা কারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে,তা এখনও জানা যায়নি৷

জেএনইউ-র ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষের কথায়, ‘বিবেকানন্দের মূর্তি ভাঙাকে সমর্থন করি না। আমরা আলাপ-আলোচনার মধ্যে সমস্যার সমাধানে বিশ্বাসী। এটা জেএনইউ ছাত্ররা করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা কোনও ধরনের গুণ্ডামিকে সমর্থন করে না। তবে আন্দোলনকে বিপথগামী করতে নানা ধরনের অপপ্রচার চলছে।”

উল্লেখ্য,কয়েক বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি স্থাপনের। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সেই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছিল বাম ছাত্র সংসদ। এবং সেই আপত্তির ফলে, সেই সময় স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছিল কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছিল, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ব্লকের সামনে একটি স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। স্থির হয়েছিল যে জহরলাল নেহেরুর মূর্তি যেখানে রয়েছে ঠিক তার উলটো দিকেই হবে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি। নতুন এই মূর্তি ছাপিয়ে যাবে জহরলাল নেহরুর মূর্তিকে।

সেই সময় বাম ছাত্র সংসদ অভিযোগ করেছিল,স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি বসানোর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আসলে কেন্দ্র সরকারকে খুশি করতে চাইছে৷ প্রধানমন্ত্রী মোদী তিন হাজার কোটির মূর্তি স্থাপন করে রাজনীতি করছেন। সেই একই পথে হাঁটতে চাইছেন জেএনইউয়ের উপাচার্য মামিদালা জগদীশ কুমার। এমনই অভিযোগ করেছিল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি এন সাই বালাজি।

২০১৭ সালের জুন মাসের ৩০ তারিখে জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের ২৬৮তম বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল৷ শেষ পর্যন্ত স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তি বসানো হলেও,তা দুষ্কৃতীরা ভেঙে ফেলায়,নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷