স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়তেই তিনি ভালোবাসেন৷ লড়াই করে অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ায় যেন তাঁর নেশা৷ রবিবার তমলুকের নিমতৌড়ির স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গনে তৃণমূলের বর্ধিত সভা ও বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠানে খোলাখুলিভাবে এমনটাই জানালেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী তথা যুব তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী৷
শুভেন্দুর কথায়,‘‘নেগেটিভ কাজকে প্রজেটিভ কাজে পরিনত করতে আমার ভাল লাগে। আমি চাই প্রতিকূলতার সঙ্গে কাজ করতে৷ সেখানেই নিজের প্রকৃত দক্ষতা খুঁজে বের করা যায়৷’’ এ যে স্রেফ কথার কথা নয়, রীতিমতো উদাহরণ সহকারে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি৷

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-লক্ষ্মণ শেঠদের লালমাটির নন্দীগ্রাম থেকে একদা মাওবাদীদের ‘গর্ভগৃহ’ জঙ্গল মহল কিংবা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর ‘‘গড়’ হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদ-সর্বত্রই দলের সাংগঠনিক বিস্তারের ভার তাঁর কাঁধেই বর্তেছেন দলনেত্রী৷ তিনটি জায়গাতেই কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝে শেষ হাসি হেসেছেন তিনি৷

সাংগঠনিকভাবে বিস্তার লাভ করেছে তৃণমূল৷সেকথা মনে করিয়ে দিয়ে এদিনের বিজয়া সম্মিলনী থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বলেছেন, ‘‘সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ জেলায় যে সমস্ত আসন এখনও আমাদের হাত ছাড়া রয়েছে, সেগুলিকে কিভাবে জেতাতে হয় তার দায়িত্ব আমি্ নিচ্ছি৷আপনারা ব্লকস্তরের সমস্ত কমিটিকে সজাগ ও সচেতন ভাবে জনসংযোগ গড়ে তুলতে বলুন৷বাকিটা হয়ে যাবে৷’’

সদ্য শেষ হওয়া হলদিয়া পুর নির্বাচনে বিরোধীদের ধরাশায়ী করে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করেছে শাসকদল৷ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনেও জেলাকে বিরোধী শূন্য করতে মরিয়া শুভেন্দু৷ এদিনের বিজয়া সম্মিলনী থেকে কার্যত সেকথায় স্পষ্ট করলেন তিনি৷

এদিন সভায় শুভেন্দু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের জেলা সভাপতি তথা সাংসদ শিশির অধিকারী, মন্ত্রী তথা দক্ষিন কাঁথির বিধায়ক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বিধায়ক ফিরোজা বিবি, সুকুমার দে, জেলা পরিষদের সভাধিপতি মধুরিমা মণ্ডল সহ অন্যান্যরা।