বারাকপুর: নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু তৃণমূলেই থাকছেন কিনা, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে ৬ ডিসেম্বর, রবিবার। সূত্রের খবর, ওইদিন কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করবেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই বৈঠকের ঠিক দুদিন আগে শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য শোনা গেল শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ তথা তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়ের গলায়।

বৃহস্পতিবার উওর ২৪ পরগণার বরাহনগরের প্রকাশ্য জনসভায় নন্দীগ্রামের এই বিধায়ক সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী আমাদের দলের ভালো নেতা ছিল। তিনটে দফতরের মন্ত্রী ছিল। আমি ওকে বলেছিলাম, ওর যদি অভিষেকের সঙ্গে সমস্যা থাকে অভিষেকের সঙ্গে বসিয়ে দিচ্ছি। পিকের সঙ্গে সমস্যা হলে পিকের সঙ্গে বসিয়ে দিচ্ছি। কিন্তু ও যদি সব কিছুর পরও এখন মনে করে বিজেপিতে যাবে, কিছু বলার থাকে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা রক্ত দিয়ে তৃণমূল দল তৈরি করেছি। যে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে চলে যাবে, তাঁর সঙ্গে দলের কোনও সামাজিক সম্পর্ক থাকবে না। আমি সৌগত রায় তাঁর মুখ দর্শন করব না।”

প্রসঙ্গত, সৌগত রায় এর আগেও শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নিজে দুবার বৈঠক করে ছিলেন। একবার অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ও পিকের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী সব বৈঠকের পরেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে জানিয়ে দেন তিনি তৃণমূলে সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন না।

তারপরই বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বরাহনগরে প্রকাশ্য জনসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে বার্তা দেন, “দল ছেড়ে গেলে আর কোনও সামাজিক সম্পর্ক থাকবে না শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। এমনকি তিনি শুভেন্দু অধিকারীর মুখও দর্শন করবেন না বলে জানিয়েছেন।”

অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর জল্পনায় পাকাপাকি ভাবেই ইতি টানতে চলেছে তৃণমূল। দলীয় সাংসদ সৌগত রায় সংবাদমাধ্যমকে সেই ইঙ্গিতই দেন। তাঁর কথায়, শুভেন্দুর বিষয়টি এখন ‘ক্লোজড চ্যাপ্টার’।

শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছিল। সম্পর্কের বরফ গলাতে দলের তরফে তাঁর সঙ্গে বারবার কথা বলছিলেন সৌগত রায়। মঙ্গলবার রাতে উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারের কাছে একটি বাড়িতে ওই বৈঠকে অভিষেক, শুভেন্দু ছাড়াও ছিলেন তৃণমূলের দুই সাংসদ সৌগত এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকের পর সৌগত দবি করেন, ‘‘সমস্ত সমস্যা মিটে গিয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছে, ও দল ছাড়ছে না। বিধায়ক পদও ছাড়ছে না। বাকি শুভেন্দুই পরে জানাবে।’’

তবে সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতে পাঠানো এসএমএসে প্রথমেই তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়ে দেন ‘আর একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়।’ শুভেন্দুর বক্তব্য ছিল, তাঁর উপর ‘একতরফা ভাবে সব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে’। ঠিক হয়েছিল, তিনি ৬ তারিখ সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করবেন। তার আগেই সৌগত প্রকাশ্যে সব বলে দিয়েছেন বলে শুভেন্দু উষ্মাও প্রকাশ করেন।

এদিকে এই মেসেজ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানান তৃণমূল সাংসদ। সৌগতর দাবি, ‘যথেষ্ট সৌহার্দ্যপূর্ণ’ পরিবেশে আলোচনা হয়েছিল। সে কথাই তিনি ‘সত্যনিষ্ঠ ভাবে’ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। তার পর শুভেন্দু যদি তাঁর অবস্থান বদল করে থাকেন, তা হলে সেটা তাঁর বিষয়। বৃহস্পতিবার সৌগত রায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁর তরফে আর শুভেন্দু অধিকারীকে কিছু বলার নেই। উনি নিজে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবেন। এ থেকে স্পষ্ট, আর আলোচনার কথা ভাবছে না তৃণমূল।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।