দেবশ্রী মাইতি, তমলুক : ”আমি একটি দলের প্রাথমিক, সক্রিয় সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে তাড়াননি, আমিও ছাড়িনি। নিয়ন্ত্রকরা তাড়াননি, আমিও ছাড়িনি। মতভেদ থেকে বিচ্ছেদ হয়, কিন্তু বিদ্যাসাগরের জেলার লোক এত অনৈতিক নই যে এই মঞ্চে দলবদলের কথা বলব।”

ইন্দিরা গান্ধীর জন্মদিনে তাঁর ছবিতে মাল্যদান করছিলাম দেখে এক সাংবাদিক বললেন, দলবদলের কথা ভাবছে। টিআরপির জন্য যা খুশি করতে পারেন।’ বৃহস্পতিবার ১৯ নভেম্বর রামনগরে সমবায় সপ্তাহের মেগা শো-র মঞ্চ থেকে এমনই মন্তব্য করলেন শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন তিনি বলেন, “আমি বসন্তের কোকিল নই। সব সময় ভোট চাই ভোট দাও, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও বলি না। স্থান, কাল, পাত্র, ব্যানার জানে শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের মঞ্চে যেমন রাজনৈতিক কথা বলি না, তেমন মন্ত্রিসভার সদস্য থেকে রাজনৈতিক কথা এখানে বলা যায় না। এটা সমবায়ীদের মেগা শো। কোনও রাজ্য বা দেশ এতো বড়ো সমবায় সভা করতে পারবেন না।”

এদিন তিনি আরও বলেন, “দশকের পর দশক এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বলেই করতে পারি। অন্তত ৫ লক্ষ পরিবারের সঙ্গে সমবায়ের মাধ্যমেই আমার সম্পর্ক আছে। সবার সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক। হলদিয়ায় ছটপুজোর অনুষ্ঠানে যাব, ৫ হাজার হিন্দিভাষী ওখানে আছেন। নন্দকুমার থেকে পুরুলিয়া অবধি জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন করব।” এদিন সমবায় সমাবেশ শেষে জয়তু সমবায় স্লোগান দেন শুভেন্দুবাবু।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, বৃহস্পতিবারের সভায় তাঁর দলবদলের জল্পনায় কার্যত জল ঢেলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সাফ জানিয়েছেন, তিনি এখনও একটি দলের প্রাথমিক সদস্য। তবে দলে থাকলেও আত্মসম্মান নিয়ে আপোসের রাস্তায় হাঁটতে নারাজ ‘জননেতা’। ‘নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে কাজ করার লোক নই’। প্রকাশ্য সভায় এই মন্তব্যে দলেরই একাংশকে বিঁধেছেন পরিবহণমন্ত্রী। এমনই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গত কয়েক মাস ধরেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল। দলের ব্যানার ছাড়াই করোনাকালে একের পর এক সভা-সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকেছেন নন্দীগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক। নাম না করে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকেও আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। প্রকাশ্য সভায় নাম না করে তুলোধনা করতে দেখা গিয়েছে মন্ত্রিসভায় তাঁর সতীর্থ তথা তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ নেতা ফিরহাদ হাকিমকে।

শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছাড়ছেন বলে জল্পনা তৈরি হয় শাসক-শিবিরের অন্দরেও। তবে বৃহস্পতিবারের সভায় তাঁর দলবদলের জল্পনায় শুভেন্দু নিজেই জল ঢেলেছেন। তিনি এখনও একটি দলের প্রাথমিক সদস্য বলে জানিয়েছেন। তবে এখনই দল ছাড়ার ঘোষণা না করলেও আত্মসম্মান নিয়ে দলে আপোসের রাস্তায় হাঁটতে তিনি নারাজ। তাঁর সাফ ঘোষণা, ‘‘আমি যে পদগুলিতে আছি সবগুলিই নির্বাচিত। মনোনীত নয়। আমি যা করছি তা পেশা নয়, নেশা। নীতি-আদর্শ বিসর্জন দিয়ে কাজ করার লোক আমি নই।’’

রামনগরের সভায় শুভেন্দুর এই মন্তব্যে নয়া জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে তি দলেরই কারও আচরণে মনক্ষুন্ন হয়েছেন ‘জননেতা’? দলের কারও সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরেই কি তাঁর এই ‘বিদ্রোহ’? সেকথা এদিন স্পষ্ট করে না বললেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, ‘বুদ্ধিমান লোকেদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট’।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।