স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গেরুয়া পালে হাওয়া লেগেছে বাংলায়৷ জোড়াফুল ছেড়ে বেশ কয়েকজন বিধায়ক ও নিচু তলার কর্মীরা যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে৷ তালিকাকে দীর্ঘ তা বাড়ে বাড়েই হুঁশিয়ারির সুরে জানান দিচ্ছেন মুকুল রায় সহ পদ্ম শিবিরের অন্যসব নেতাও৷ বদলের এই আবহে পুলিশ প্রশাসনের আচরণেও পরিবর্তন৷ টের পাচ্ছেন রাজ্যের মন্ত্রীরাই৷ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন মমতা ঘনিষ্ট বেশ কিছু তৃণমূল নেতাও৷

সোমবার নবান্নে ছিল পর্যালোচনা বৈঠক৷ সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন৷ সন্দেশখালি সগ বিভিন্ন জায়গায় কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না তাও জানতে চান৷ তখনই তাঁকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভের কথা জানান রাজ্যের দুই মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷

আরও পড়ুন: তৃণমূল পুরসভায় মেয়রে আস্থা নেই ডেপুটির

সূত্রের খবর, পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৈঠকে বলেন, ‘‘পুলিশের ভূমিকা ঠিক নয়৷ একটা এফআইআর করতে গেলে বারবার বলতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিচু তলার কিছু পুলিশ হয় ভয় পাচ্ছেন, নইলে ইচ্ছা করে কথা শুনছেন না৷’’ সন্দেশখালি, নিমতার কথা তুলে ধরে একই কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও৷ তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘ বলতে বাধ্য হচ্ছি, পুলিশ কোথাও ভয় পাচ্ছে ব্যবস্থা নিতে। এত দ্বিধা কেন? ভয়ই-বা কীসের’’

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ জানা গিয়েছে, মন্ত্রিসভায় তাঁর অতি ভরসার দুই মন্ত্রীর কথা শুনে অসন্তোষ চেপে রাখেননি মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সভায় উপস্থিত রাজ্য পুলিশের ডিজিকে আরও কড়া হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়৷ ডিজি বীরেন্দ্রকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনি এত ভদ্র মানুষ হলে চলবে না৷ কটোর হতে হবে৷”

বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপার ও অন্যসব পুলিশ কর্তাদের উদ্দেশ্যেই কড়া কথা বলেন তিনি৷ জানা গিয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, “আপনারা নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন৷ আমাকে চটাবেন না। বাংলায় রাজনৈতিক স্বার্থে বিজেপি অশান্তি করবে, আর আপনারা দায় এড়িয়ে থাকবেন তা হতে পারে না৷ রাজ্যে শান্তি বজায় রাখা দায়িত্ব পুলিশের ভুলে যাবেন না৷’’

নবান্নে সংবাদ মাধ্যমের সামনেও মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‘নিচু তলার কিছু পুলিশ ঠিক করে কাজ করছে না৷ এটা হবে না৷ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করে যেতে হবে৷ মনে রাখবেন এই সরকার আরও বছর দুয়েক রয়েছে৷ ভোট অনেক দূরে৷ কর্তব্য পালন করুন৷’’

আরও পড়ুন: ‘রাজ্যপালের বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছে’, কটাক্ষ পার্থর

সাম্প্রতিক কালে বিজেপি নেতাদের মুখে পুলিশকে ‘দলদাসে’ পরিণত করার অভিযোগ করা হচ্ছিল রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে৷ এযেন উলোট পুরাণ৷ বিজেপির বহরে বাড়তেই এবার পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে শুরু করেছেন খোদ মন্ত্রীরাই৷

২০০৯ সালের পর থেকে রাজ্যে জোড়াফুলের রমরমা৷ মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকারের শেষে দিকে বাম মন্ত্রীদের মুখেও পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ শোনা যেত৷ এযেন অনেকটা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি৷ মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের৷