নন্দীগ্রাম: অনেকেই অতীত ভুলে যান। আমি শুভেন্দু অধিকারী সব সময় আমি বলি যেটা দিয়ে শুরু করেছিলাম সেটা দিয়ে শেষ করবো। অতীত যাহারা ভুলে যান তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারে না। তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে। এটাই হচ্ছে চিরন্তন সত্য। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। অতীত ভুলে যাওয়া নিয়ে কাকে নিশানা করলেন শুভেন্দু! তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

শুধু তাই নয়, তাঁর মন্তব্যে নতুন করে কিছুটা একটা শুরু হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক কারবারিরা। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামে নন্দীগ্রাম ভূমিরক্ষা আন্দোলনের সৈনিক অমর শহীদ নিশিকান্ত মন্ডলের স্মরণ সভা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই বললেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম কাণ্ডারী শুভেন্দু অধিকারী।

মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারী স্মরণ সভা মঞ্চ থেকে বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী যেদিন আপনাদের কাছে এসেছিল সেদিন কিন্তু আমি আপনাদের এমপি বা এমএলএ ছিলাম না। দক্ষিণ কাঁথির বিধায়ক ছিলাম।

আমাকে ২০০৬ সালের ৩ নভেম্বর তেখালির ভাঙ্গা ব্রীজের এই রাস্তা দিয়ে তখন মোরাম রাস্তা ছিল সোনাচূড়া হাইস্কুল মাঠে প্রথম এই আন্দোলনের বীজ বপন করার যে স্মৃতি সেদিন নিশিকান্ত মন্ডল আমাকে নিয়ে এসেছিলেন।

তাই এই নেতা না থাকলে এই লড়াইতে আমরা জিততে পারতাম না। অনেকেই অতীত ভুলে যান। কিন্তু আমি শুভেন্দু অধিকারী সব সময় আমি বলি যেটা দিয়ে শুরু করেছিলাম সেটা দিয়ে শেষ করবো। অতীত যাহারা ভুলিয়া যান তাহাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হইতে পারে না।”

নন্দীগ্রামের ভূমি রক্ষা আন্দোলনের অন্যতম কাণ্ডারী বলা চলে রাজ্যের মন্ত্রী তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীকে। মঙ্গলবার সকালে এই ভূমিরক্ষা আন্দোলনের অন্যতম অমর শহীদ নিশিকান্ত মন্ডলের স্মরণ সভা অনুষ্ঠানে নন্দীগ্রামের সোনাচূড়াতে উপস্থিত হন শুভেন্দু। আর সেখান থেকেই তিনি সেদিনের নন্দীগ্রামের ভূমিরক্ষা আন্দোলনের স্মৃতিচারণা করেন।

অন্যদিকে, আমফানে ক্ষতিপূরণ নিয়ে বলেন, “যতটা সম্ভব আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। নিশ্চিত ভাবে যা ক্ষতি হয়েছে তার একশো শতাংশ পূরণ কেউ করতে পারেনা এবং পারবেও না। কিন্তু যারা দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি বা আপনাদের সেবক সরকারি প্রতিনিধি তারা চেষ্টা করেছে মানুষের কাছে দাঁড়ানোর।

যেটুকু ফাঁকফোকর ছিল যেখানে যেখানে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা বঞ্চিত হয়েছেন আমার কাছে খবর আছে আমি আমার বিধায়ক কার্যালয় থেকে সরাসরি প্রতিনিধি পাঠিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আপনাদের আশীর্বাদ এবং সহযোগিতা থাকলে আমরা নিশ্চিত ভাবে এগিয়ে যাবো।”

এদিন শুভেন্দুবাবু মহামারী করোনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের ভারতবর্ষে তথা রাজ্যের সাথে সাথে এই জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অনেক। কিন্তু এটাও খুশির খবর যে স্বাস্থ্য দপ্তরের লোকেরা, আশা কর্মী বোনেরা- দিদিরা, পঞ্চায়েতের লোকেরা এবং আমরা সবাই আমাদের এই জেলায় আরোগ্য প্রাপ্তির হার দেশে যখন ৮০ ভাগ, রাজ্যের যখন ৮৬ ভাগ আমাদের জেলায় কিন্তু ৮৮ ভাগ। আমাদের জেলায় মৃতের শতাংশ ০.৮৩ মাত্র। এটা সম্ভব হয়েছে আপনারা সবাই সচেতন নাগরিক বলে।”

এদিন শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগে এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানদের মারফত সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে মাস্ক এবং স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়। এদিন শুভেন্দু অমর শহীদ নিশিকান্ত মন্ডলের প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।

পচামড়াজাত পণ্যের ফ্যাশনের দুনিয়ায় উজ্জ্বল তাঁর নাম, মুখোমুখি দশভূজা তাসলিমা মিজি।