স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরের কৃষক আন্দোলনের হাত ধরেই পরিবর্তন এসেছিল বাংলায়। কৃষক আন্দোলনই ভিত্তি স্থাপন করেছিল বর্তমান রাজ্য সরকার। রাজ্যের কৃষকদের জন্য উদারতার পরিচয় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জন্য কৃষিক্ষেত্রে উন্নতি করতে সবসময়ই উদ্যোগী তিনি। কৃষকদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের সূচনা করে বারবার তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যার অন্যতম প্রকল্প ‘কৃষকবন্ধু’।

কৃষকদের আয় সুনিশ্চিত করেতে অ্যাসিওরেন্স মডেলে এই প্রকল্প তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পেতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ২ লক্ষ ৭২ হাজার কৃষক আবেদন জমা করেছেন। যাদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৫৩ হাজার ২৪৬ জনকে মনোনীত করেছে জেলা কৃষি দফতর। মঙ্গলবার জেলার নন্দকুমার ব্লকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৭ হাজার ২৫৩ জন কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হল কৃষকবন্ধু প্রকল্পের চেক। মোট ২ কোটি ৫৮ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকার চেক প্রদান করা হয় এদিন। পরিবেশ ও পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কৃষকদের হাতে চেক তুলে দেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক পার্থ ঘোষ, নন্দকুমার ব্লকের বিডিও আবু তৈয়ব, স্থানীয় বিধায়ক সুকুমার দে, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীননাথ দাস সহ অন্যরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সিঙ্গুরে জোর করে কৃষকের জমি অধিগ্রহণ করার জন্য তৎকালীন সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। লাঠি দিয়ে মেরে, ডাণ্ডা দিয়ে মাথা ফাটিয়ে তাঁদের রক্তাক্ত করে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে জিম অধিগ্রহণের চেষ্টা হয়েছিল। তখন আমাদের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ২৬ দিন অনশন করেছিলেন। কিন্তু সামনে কোনও নির্বাচন ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী কিংবা রেল মন্ত্রী হওয়ার কোনও এজেন্ডাই ছিল না। তিনি কৃষকদের জন্য অনশন করেছেন।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে জনগণের জন্য, কৃষদের জন্য এত বড় আন্দোলন আর কেউ করেনি। নন্দীগ্রামে আন্দোলনও রাজনৈতিক পতাকা নিয়ে হয়নি। সেখানে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি গড়ে আন্দোলন হয়েছিল। ২৭ টি গ্রাম দখলের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের মতো নন্দীগ্রামে ৪১ জন কৃষক বলিদান দিয়েছেন। এই কৃষক আন্দোলনই ভিত্তি স্থাপন করেছিল বর্তমান সরকার। তাই তো সরকার আইন করেছে কোনও ব্যক্তিগত বা বেসরকারি সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে কৃষককে তাড়িয়ে জমি অধিগ্রহণ করবে না৷’’

তার মতে, আগে রাজ্য সরকার কৃষকদের খাজনা মুকুব করেছে। মিউটেশন ফি মুকুব করেছে। আর এখন নতুন বছরে কৃষকদের জন্য রাজ্য সরকারের উপহার ‘কৃষকবন্ধু।’ নাম না করেই এদিন কেন্দ্রের মোদী সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, কন্যাশ্রীর মতো কৃষকবন্ধুকেও কেউ কেউ দেখে নকল করার চেষ্টা করছেন। বলছে সাড়ে ১৪ বিঘা জমি থাকলে তখন টাকা পাবেন। কৃষকদের প্রতারিত করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যা বলেন, ভেবে বলেন। যেটা বলেন, সেটা করে দেখান। এদিন নন্দকুমার ব্লকের বদলপুরে একটি ফ্লাড সেন্টারের উদ্বোধনও করেন মন্ত্রী।