স্টাফ রিপোর্টার, হলদিয়া: ‘উন্মেষ’ একটি শিশু নির্যাতন-প্রতিরোধ ও সামাজিক প্রকল্প। শিশু নিপীড়ন ও শোষণ বিশেষ করে শিশুদের যৌন অপব্যবহার পরিবারের মধ্যে সমাজের নানা স্তরে নানা ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে এই সামাজিক ব্যাধি একটি জ্বলন্ত সমস্যা। তাই এই তীব্র সামাজিক সমস্যার সামাজিক প্রতিরোধে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ ও হলদিয়া এনার্জি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ প্রকল্প ‘উন্মেষ’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, পুলিশ আইন শৃঙ্খলা দেখার পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের পাশে রয়েছে। শিশুদের বিশেষ সুরক্ষা দিচ্ছে পুলিশ। ‘নির্ভয়া’র মতো কাণ্ড ঘটছে না। ‘উন্মেষ’ কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতন করতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের আত্মরক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার ভি সলমান নেসাকুমারের মতে, ‘আমরা ‘উন্মেষ’ প্রকল্পের গুরুত্ব ও রূপরেখা নিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে সাতটি কর্মশালা সম্পন্ন করা হয়েছে। জেলার ২৫টি ব্লকের ১০৪টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করা হয়েছে। তাদের পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার-সহ প্রচার সামগ্রী তুলে দিয়েছি। তবে এই কর্মসূচিকে সামনের দিকে আরও ভালোভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতি আমরা দায়বদ্ধ।’

মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী, জেলাশাসক পার্থ ঘোষ, জেলা পুলিশ সুপার ভি সলমান নেশাকুমার, হলদিয়ার মহকুমাশাসক কুহক ভূষণ, হলদিয়া এনার্জি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর রবি চৌধুরী, সভাপতি গৌতম রায়, প্ল্যান্ট হেড সুদীপ্ত কুমার মুখোপাধ্যায়-সহ জেলা পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন হলদিয়া মহিলা থানার ওসি মৌসুমি সর্দার, কাঁথি মহিলা থানার ওসি অনুষ্কা মাইতি, দূর্গাচক থানার ওসি বিপ্লব হালদার ও ভবানীপুর থানার ওসি রাজা মণ্ডল প্রমুখ।

পাশাপাশি তিনি এদিন একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন৷ হলদিয়ার টাউনশিপে অ্যাঙ্করেজ ক্যাম্পে একটি রাস্তার নির্মাণকাজের সূচনা করেন তিনি। সেখানে তিনি বলেন, হলদিয়ায় বিনিয়োগ টানতে এইচডিএ শক্তপোক্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোড, এলইডি পথবাতি, সৌন্দর্যায়নের মতো বিভিন্ন পরিকাঠামো তৈরি ওপর জোর দিয়েছে।

হলদিয়ার অ্যাঙ্করেজ ক্যাম্প থেকে দুর্গাচক পর্যন্ত শহরের দু’প্রান্তের সংযোগকারী সাড়ে ১৪ কিলোমিটার রাস্তা নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাড়ে ২৮কোটি টাকা ব্যয়ে এই রাস্তা তৈরি হবে। প্রথম পর্যায়ে এদিন অ্যাঙ্করেজ ক্যাম্প থেকে সুপিরিয়র পেট্রল পাম্প পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণ কাজের সূচনা করা হল। এজন্য সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। রাস্তাটি সাত মিটার চওড়া করা হবে। এই প্রকল্পের বাকি অর্থ দেবে হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি রাস্তার দুধারে গাছ লাগিয়ে সুন্দার্যান করা হবে বলে মন্ত্রী জানান।

রাস্তার নির্মাণ কাজে সূচনার পর এদিন সন্ধ্যায় ভুঁইয়ারায়চক, ঝিকুরখালি এলাকায় মিৎসুবিশি থেকে হলদিয়া অ্যানার্জি পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার রাস্তায় এলইডি পথবাতির জ্বালিয়ে প্রকল্পের সূচনা করেন মন্ত্রী। এই রাস্তায় মোট ১৮৪টি পথবাতি বসানো হয়েছে। এইচডিএর সঙ্গে এই পথবাতি বসানোর জন্য ৬৫ শতাংশ খরচ বহন করেছে হলদিয়া এনার্জি। এরপর তমলুক শহরে ঐতিহাসিক বানপুকুর সরোবরকে এলইডি পথবাতি দিয়ে আলোকিত করা ও উদ্যান নির্মাণ প্রকল্পের সূচনা করেন মন্ত্রী।