তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: দলের সুপ্রিমো ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি বাঁকুড়ায় রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলন উপলক্ষ্যে কোনও চাঁদা বা তহবিল সংগ্রহ করা যাবেনা। সর্বস্তরের দলীয় জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের প্রাপ্য সাম্মানিক থেকে সাধ্যমতো অর্থ সাহায্য করবেন।

গত সোমবার বাঁকুড়া শহরের রবীন্দ্র ভবনে দলের জনপ্রতিনিধি ও নেতৃত্বের সঙ্গে এক বৈঠকে এই হুইপ জারি করেন রাজ্যের মন্ত্রী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য ঘিরে জেলা রাজনৈতিক মহলে তৈরী হয়েছে বিতর্ক। তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে কটাক্ষ করার সুযোগ ছাড়ছেনা এই মুহূর্তে অন্যতম বিরোধী শক্তি বিজেপিও।

প্রসঙ্গত, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি তিন দিনের বাঁকুড়া জেলা সফরে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরদিন শহর সংলগ্ন সতীঘাট বাইপাস ময়দানে দলীয় কর্মী সম্মেলন করবেন তিনি। এই সম্মেলন উপলক্ষ্যে, দলের নেতা-কর্মীদের কোনও চাঁদা বা তহবিল আদায় না করার নিদান দেন জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী। যদিও কর্মী ও নেতৃত্বকে নিয়ে রবীন্দ্রভবনের বেঠকে এই কথা বললেও সাংবাদিকদের সামনে এই বিষয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি তিনি।

ওই দিন শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এবিষয়ে কিছু না বললেও, দলের বর্ষীয়ান নেতা ও জেলা পরিষদের ‘মেন্টর’ অরুপ চক্রবর্তী একথা স্বীকার করে নিয়েছেন। মঙ্গলবার এবিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঐ দিন ৫০ হাজার কর্মীকে একত্রিত করে ‘ঐতিহাসিক সমাবেশ’ হবে বাঁকুড়ায়। শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশ মেনে এই জনসভা উপলক্ষ্যে দল কোন চাঁদা বা তহবিল আদায় করবেনা। দলের প্রধান, উপপ্রধান, সভাপতি, সহ সভাপতি, মেন্টর থেকে বিধায়ক প্রত্যেকেই তাঁদের এক দিন বা এক মাসের সাম্মানিক দেবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দলের প্রতীকে যারা জিতেছেন তাদের প্রত্যেকেই দলীয় নির্দেশ মেনে কাজ করতে হবে। এই বার্তাই সমস্ত স্তরের জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যকে ঘিরে সুর চওড়া করেছে বিজেপিও। দলের বাঁকুড়ার সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, কয়েক দিন পরে বাঁকুড়ায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ও মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য নিয়ে ‘সমাজে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে’।

একদিনে যখন উনি বলছেন কোনও চাঁদা আদায় করা যাবেনা, তখনই ওনার দলেরই এক জেলা নেতা প্রধান থেকে বিধায়কদের এক দিন বা একমাসের বেতন দেওয়ার কথা বলছেন। শুভেন্দু অধিকারীর কথাতেই স্পষ্ট এতদিন তাদের দলীয় কর্মসূচী উপলক্ষ্যে ‘তোলাবাজি ও সিণ্ডিকেটের মাধ্যমে’ টাকা আসত বলে তিনি অভিযোগ করেন। প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শে এসব বন্ধের কথা বলা হলেও ওই জেলা নেতার বক্তব্য ‘ভয়ঙ্কর’ দাবি করে তিনি আরও বলেন, এবার ঐ সব জনপ্রতিনিধিরা ‘তোলা’ তুলবে। ওরা যতই ‘নাটক’ করুন মানুষ সব বুঝে গেছেন। সময় এসে গেছে তৃণমূলকে মানুষ এবার ‘প্রত্যাখ্যান’ করবে বলেও সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে তিনি দাবি করেন।