তিমিরকান্তি পতি (বাঁকুড়া); দলের বিরুদ্ধে গিয়ে এক দু’জন নেতা দলের নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে অবৈধ বালি খাদানে যুক্ত হয়েছেন। মালের দায়িত্ব আরোহীর। দল তাদের কোন দায়িত্ব নেবে না’। মঙ্গলবার বিকেলে বাঁকুড়ার ওন্দা স্টেডিয়ামে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের একাংশের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এই ভাষাতেই হুঙ্কার দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ও বাঁকুড়া জেলা দলীয় পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন তিনি আরও বলেন, খারাপ কাজ যারা করে দল তাদের দায়িত্ব নেবে না। কারণ ওই অর্থ তৃণমূল নেয় না। তবে যারা ৩৪ বছর সিপিএমের ‘অত্যাচার’ সহ্য করেছে দল তাদের পাশে আছে বলেও শুভেন্দু অধিকারী বার্তা দেন।

সিপিএম নেতা অমিয় পাত্র ও মনোরঞ্জন পাত্রের নাম করে তিনি বলেন, ২০১১ সালের আগে এদেল নেতৃত্বে কিছু লোক জেলার বিভিন্ন অংশে ধারাবাহিক অত্যাচার চালিয়েছে। তারাই এখন লাল জামা ছেড়ে গেরুয়া জামা পরে অশান্তি সৃষ্টি করছে। আর এসব থামাতে নিজেকে ‘স্পেশ্যালিষ্ট’ দাবী করে বলেন, ৯০ শতাংশ অশান্তি থেমে গিয়েছে, বাকিটাও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

রাজ্য থেকে বিজেপির ১৮ জন সাংসদ নির্বাচিত হয়ে দিল্লী গিয়েছেন প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, দু’টো ‘হাফ প্যান্ট’ মন্ত্রী দিয়েছে, এদের কারও পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা নেই! একই সঙ্গে বাঁকুড়ার দুই বিজেপি সাংসদ জেলায় নতুন ট্রেন আনার ক্ষমতা তো নেই, একটা বগিও জুড়তে পারেননি বলে তিনি দাবী করেন। উন্নয়নের প্রশ্নে জেলার দুই বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার ও সৌমিত্র খাঁকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, রাজ্যে আমাদের সরকার আছে। আমরা উন্নয়ন করবো, আর সুভাষ ও সৌমিত্রবাবু দিল্লী থেকে উন্নয়ন আনুন। দু’টো উন্নয়নে লড়াই হোক। যে বেশী উন্নয়ন করতে পারবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মানুষ তাকেই ভোট দেবেন বলেও তিনি দাবী করেন।

এদিনের সভামঞ্চে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ওন্দার কাঁটাবাড়ি ও নাকাইজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা ফের তার দলের ফিরে এসেছেন বলে তৃণমূল সূত্রে দাবী করা হয়েছে। একই সঙ্গে এদিন বিজেপির হাতে আক্রান্ত দলীয় কর্মী রমেশ রুইদাস ও তপন ঘোষকে এক লক্ষ টাকা সাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও এদিনের সমাবেশে দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা, জেলা পরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্ম্মু, সহ সভাধিপতি শুভাশীষ বটব্যাল, বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি, অরুপ খাঁ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।