কাঁথিঃ গনতন্ত্র ফিরিয়ে দাও। মেশিন নয়, ব্যালট ফেরাও এবং সারা রাজ্য জুড়ে বিজেপির লাগামছাড়া সন্ত্রাসের প্রতিবাদে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উত্তর কাঁথি বিধানসভার অস্তিচক হাইস্কুল মাঠে রবিবার দুপুরে মিছিল করে সমাবেশ করলেন রাজ্যের পরিবহন ও পরিবেশ মন্ত্রী তথা রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শুভেন্দুবাবু সভাতে বিজেপিকে শুধু হুমকিই নয়, উপস্থিত কর্মী সমর্থকদের হতাশ না হওয়া এবং সমস্ত রকম সাহস যোগান নিজের বক্তব্যে।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বর্তমানে এলাকায় এলাকায় নতুন পরিবেশ নতুন চক্রান্ত নতুন হার্মাদ হানা শুরু হয়েছে। তাই পূর্ব মেদিনীপুরের মাটিতে হেঁটে সভা করে বলে যাচ্ছি দুর্বৃত্ত তুমি সাবধান। মেদিনীপুরের মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নেব আমরা। এখানকার সাধারণ মানুষ সিপিএমের সন্ত্রাসের সাক্ষী। সিপিএমের নেতারা বিজেপির নাম নিয়ে নতুন করে যে এলাকা দখল করার পরিকল্পনা শুরু করেছে তা আমরা হতে দেব না বলে হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, এক সময় যারা সন্ত্রাস দখল খুন করেছেন তারাই লাল জামাটা পাল্টে গেরুয়া জামা পরে আবার এসেছে। বোতলটা শুধু নতুন। মদটা পুরনো। ফের শুরু করেছে সন্ত্রাস ও দখলের রাজনীতি। মনে রাখবেন এতে নেতারা কেউ ঘর ছাড়া হয় না, সাধারণ গরিব খেটে-খাওয়া মানুষরাই ঘর ছাড়া হয়ে যায়। বিজেপির এই ঘর ছাড়া করার রাজনীতি বন্ধ করতে পারবো আমরা। হতাশ হবেন না, নন্দীগ্রামে লালগড়ে সিপিএমের হার্মাদ দের সোজা করেছি, এখানেও করতে পারব। ঘরছাড়া হতে দেব না কাউকে। আমরাও খুব শীঘ্রই সভা করে এর জবাব দেব। তবে ওদের মতো বহিরাগতদের নিয়ে নয়।”

তিনি আরও বলেন, “সিপিএমের হার্মাদ-জল্লাদরা বিজেপির ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে এই এলাকায় সন্ত্রাস তৈরি করছে। সিপিএমের লোকেরা তৃণমূলকে রোখার জন্য গেরুয়া হয়ে গেছে বলে দাবি রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রীর। তাঁর মতে, তৃণমূলকে বিরোধীরা বাংলা থেকে উৎখাত করতে পারেনি। কাঁথিতে ২৯ জানুয়ারি অমিত শাস সভা করতে এসে গাড়ি ভাঙচুর ও তৃণমূলকে মারধর করে গিয়েছে। তৃণমূল মানুষের সঙ্গে কখনোই প্রতরণা করেনি। কেন্দ্রের বাজেটে বাংলা রেল প্রকল্প পায়নি। পেট্রোপণ্য সহ রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে এই বাজেটের পর। গণ আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের বিজেপিকে রুখে দিতে হবে।”

এ দিন শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, “বিজেপি’র নাম ধারী সিপিএমের নেতাদের পুনরায় সন্ত্রাসই তৃণমূলকে আরও বেশি ভোটে জেতাবে। বিজেপি নেতারা সি পি এমের হার্মাদের ফিরিয়ে এনে এই কাজটা করে দিয়েছেন।” ২১ জুলাই কলকাতার সমাবেশে সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান শুভেন্দুবাবু। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বিজেপির দাপুটে নেতা আনিসুর রহমান বলেন, “শুভেন্দুবাবু তো প্রথমেই সিপিএমের হার্মাদদের তৃণমূলে নিয়েছেন। তৃণমূলে এলে সব শুদ্ধ আর বিজেপিতে গেলে সব হার্মাদ ।তাহলে তৃণমূল নেতা মুজাফফর আর গোপাল মাইতির বিরুদ্ধে যে কাটমাণির পোস্টার পড়ছে তার উত্তর কি শুভেন্দুবাবু দেবেন? পাগলের প্রলাপ বলে তো কোন লাভ নেই।সাদা আর নীল রঙ করে বাইরে চকচক দেখিয়ে ভেতরে ফাঁকা করে লাভ নেই।লোকসভা ভোটে পরাজয়কে তৃণমূলের স্বীকার করে নেওয়া উচিত।শুভেন্দুবাবুর উচিত গায়ের জোরে রাজনীতি না করে মানুষকে নিয়ে রাজনীতি করা দিলে উনার প্রতিচ্ছবি ঠিক থাকবে।.