কলকাতা: বড় স্কুলে পড়ানো ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে পড়ানো বর্তমান সমাজের একটা অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই সমস্ত স্কুলের মাইনে সে তো আকাশ ছোঁয়া। দিকে যখন মধ্যবিত্ত পরিবারের মা-বাবাদের নাভিশ্বাস উঠে মাইনে দিতে গিয়ে অন্যদিকে আর একটি শিশুর ওপর চলে মার্কশিটে ভুরি ভুরি নাম্বার নিয়ে আসার প্রেসার। আর এই দুটির চাপে পড়ে শিশুমন এবং একটি গোটা পরিবার। বিগত কয়েক বছরের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে বহু ছাত্র-ছাত্রী মা-বাবার এক্সপেক্টেশন এর নাম্বার না তুলতে পারার নিজেরাই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। ইঁদুর দৌড় এর শেষ কোথায় তা জানে না কেউই। আচ্ছা, ভালো মানুষ হতে গেলে কি ভালো নাম্বার পাওয়া জরুরি।

এক নির্মম বাস্তব উঠিয়ে আসবে পরিচালক আতিউল ইসলামের পরবর্তী ছবিতে। যেখানে বছর ছয় সাতের একটি মিষ্টি ফুটফুটে মেয়ে অন্তরা, বাবা মা’র অনুপস্থিতিতে বাড়ির ছাদ থেকে লাভ মেরে আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যার কারণ হিসেবে একটি চিঠিতে লিখা যায় তার বাবার জন্য সে আত্মহত্যা করেছে এবং তার বাবা খুব খারাপ একজন মানুষ। সেই চিঠির ভিত্তিতে বাবা অরিত্র গাঙ্গুলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে সে জামিন পেয়ে বাড়িতে আসে । কিন্তু, প্রাথমিক দন্তী দেখা যায় অরিত্র গাঙ্গুলী সেদিন রাগের মাথায় পারবে অন্তরাকে একটি চড় মেরেছিল আর তাই অন্তরা আত্মহত্যা করে। এবার তাই নিয়ে চলে এই গল্প। যেখানে সরকারি পক্ষের উকিল এবং অরিত্র গাঙ্গুলীর উকিলের মধ্যে তৈরি হয় বিচার নিয়ে দ্বন্দ্ব।

একজন যেখানে বলে অরিত্র গাঙ্গুলী অত্যন্ত বড় অন্যায় করেছে অন্যদিকে অরিত্র গাঙ্গুলীর উকিল বলেন প্রবল পরিস্থিতির চাপে পড়েই অরিত্র সেদিন চড় মেরেছিল। অরিত্র প্রবল আর্থিক দূর্দর্ষণ থেকেও মেয়েকে বড় স্কুলে ভর্তি করিয়েছিল, তাতেও কালো মেঘ আসে মেয়ের জীবনে কারণ স্কুলের অন্যান্য কিছু শিশু তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার জন্য অন্তরার সঙ্গে স্কুলে খেলাও বন্ধ করে দেয়। মেয়ের ইচ্ছা, আর্থিক দুর্দশা , ইঁদুর দৌড় সব মিলিয়ে রাগের মাথাতেই অরিত্র এটি করেছিলেন। কিন্তু তারপরে শেষ পরিণতি কি হয় তার জন্যই ছবির মুক্তি অবদি অপেক্ষা করতেই হবে। ছবির নাম ‘কিশলয়’।

পরিচালক আতিউল ইসলাম,স্কুল জীবনের এক কঠিন বাস্তবকে নিয়ে আনতে চলেছেন ‘কিশলয়’-এর গল্প। প্রতিটি স্টুডেন্টের জীবনে মার্কশিটের নম্বরটাই কি সব কিছু? নাকি অনেক নম্বর পাওয়ার চাপেই ঘনিয়ে আসে এক প্রবল মানসিক চাপ?

ছবির পরতে পরতে রয়েছে সাসপেন্স। এই ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত, অভিনেতা সুদীপ মুখার্জী, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, শিশু শিল্পী অদ্রিজা মুখার্জী, বিবেক ত্রিবেদী, দেবরাজ মুখার্জী প্রমুখ। ছবির গল্প লিখেছেন তানবীর কাজী। ছবিতে সঙ্গীতের দায়িত্বে রয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রাণী ব্যানার্জী। ‘আরণ্যক ফিল্মস’ প্রোডাকশন-এর ব্যানারে এই বছরই মুক্তি পাবে এই ছবি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.