স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নারদা-কাণ্ডে অভিযুক্ত মুকুল ঘনিষ্ঠ আইপিএস সৈয়দ হোসেন মির্জাকে সাসপেন্ড করল রাজ্য সরকার৷ বৃহস্পতিবার নবান্ন সূত্রে এই সিদ্ধান্তের কথা জানা গিয়েছে৷

সরকারি তরফে জানানো হয়েছে, ব্যারাকপুরে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের কমান্ডান্ট পদে থাকাকালীন সৌভাগ্য দাস নামে এক সাব-ইনস্পেক্টর আত্মঘাতী হন৷ সেই ঘটনায় মৃতের স্ত্রী মির্জার বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন৷ সেই ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তের পরেই মির্জাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে৷ যদিও আইপিএস মহলের একাংশ মনে করছে, মুকুল রায়ে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করল সরকার৷

প্রসঙ্গত, নারদা-কাণ্ডের ফুটেজে এই আইপিএসকে স্টিং অপারেটর ম্যাথু স্যামুয়েলের থেকে ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছিল৷ এমনকী, তিনি মুকুলের এতটাই ঘনিষ্ঠ ছিলেন যে, মির্জার কাছেই ঘুষের টাকা দেওয়ার কথা মুকুলকে বলতে শোনা গিয়েছিল৷ সেই ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার অনেক পরে মির্জাকে কম গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হয়৷ তারপর নারদা-কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়৷ নারদা মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম থাকার পরেও তাকে সরকার সাসপেন্ড করেনি সরকার৷ ইতিমধ্যেই নারদা-কাণ্ডে মির্জাকে দু’দফা জেরা করেছে সিবিআই৷ তখনও কিন্তু সরকার তাঁকে সাসপেন্ড করেনি৷ কিন্তু মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেই তাকে সাসপেন্ড করা হল৷

সূত্রের খবর, রাজ্য সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডান্ট থাকাকালীন সাব-ইনস্পেক্টর সৌভাগ্যের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে কনস্টেবলদের ছুটির ব্যবস্থা করার অভিযোগ ওঠে৷ সেই ঘটনায় মির্জাই সৌভাগ্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন৷ তারপরই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি৷ একটি সুইসাইড নোটে তিনি লিখে যান, মানসিক নির্যাতনের জন্য চরম এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তিনি৷ তবে যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছে তা মিথ্যা বলেও দাবি করেন৷ সেই ঘটনার এতদিন পরে মির্জাকে কেন সাসপেন্ড করা হল তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে৷